৬ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

পাহাড়ে সন্ত্রাস দমনে উদ্যোগী হোন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পাহাড় অশান্ত থাকলে বাংলাদেশ নিরাপদ আছে তা বলার সুযোগ নেই। একটা শান্তি প্রিয় নির্বাচনে পাহাড়ে ঘটে যাওয়া এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ছোট কিছু নয়। দেশের অন্যান্য জায়গার সন্ত্রাস-খুনোখুনির বিষয়টি এক আর পাহাড়ের বিষয়টি নিশ্চয়ই ভিন্ন। আমরা দেখেছি, পার্বত্য তিন জেলার প্রায় ৩ হাজার সন্ত্রাসীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ওই এলাকায় বসবাসকারী লাখ লাখ মানুষের জীবন। জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), ইউপিডিএফ এবং এ দুই সংগঠন থেকে বেরিয়ে এসে নতুন নামে আত্মপ্রকাশকারী সংগঠনের সন্ত্রাসী সদস্যরা পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী শান্তিপ্রিয় সব মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার বিদ্রোহী তৎপরতায় লিপ্ত জেএসএসের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর শান্তিচুক্তিতে উপনীত হয়।

পার্বত্য এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে গত দুই দশকে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু জেএসএসের একটি অংশ শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে শান্তি-শৃঙ্খলাবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত হয়ে পড়ায় পাহাড়ে শান্তি স্থাপন তথা শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন বিঘিœত হয়েছে। শুরুতে জেএসএস ও ইউপিডিএফ পরস্পর বিরোধিতার পাতানো খেলায় লিপ্ত হলেও ১৫ মাস ধরে তারা একে অন্যের হরিহর আত্মা হিসেবে অবস্থান করছে। এ দুটি দল মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হচ্ছে। তাদের অস্ত্র আসে ভারতের মিজোরাম হয়ে মিয়ানমার থেকে। এদের রয়েছে সেনাবাহিনীর পোশাকের আদলে কমব্যাট পোশাক, ওয়াকিটকিসহ নানা সামরিক সরঞ্জাম। বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নামে এ দুই দলের সশস্ত্র ক্যাডারসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যরা অবাধে চাঁদাবাজিও করছে। সরকারি গোয়েন্দাসূত্রের বরাত দিয়ে সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউপিডিএফের সামরিক শাখার তিনটি কোম্পানি রয়েছে।

এগুলো হচ্ছে জাগুয়ার কোম্পানি (খাগড়াছড়ি), ড্রাগন কোম্পানি (রাঙামাটি) ও ঈগল কোম্পানি (বাঘাইছড়ি)। এদের কাছে রয়েছে রকেট লঞ্চার, ১৪-এমএম, এম-১৬, এসকে-৩২, সেনেভা-৮১, এম-৪ ও এম-১-এর মতো ভয়াবহ অস্ত্র। তবে এদের কোনো স্থায়ী সামরিক ক্যাম্প নেই। সবই ভ্রাম্যমাণ। কোথাও কোথাও বাঙালিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে উপজাতি গ্রুপগুলো। পার্বত্য এলাকা থেকে সেনাক্যাম্প অপসারণের পর পাহাড়ি-বাঙালি সবার ওপর নির্দয় চাঁদাবাজি করছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যরা; যা বন্ধে পাহাড়ে সন্ত্রাস দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান চালানোর কথা ভাবতে হবে।

পাহাড় অশান্ত হওয়ার বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া হবে আত্মঘাতী। পাহাড়কে শান্ত নয় এর সঙ্গে যুক্ত অবৈধ সব ব্যবসায়ীদেরও কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আমরা মনে করি, পাহাড় বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে এবং শান্তিতে থাকবে। দীর্ঘ মেয়াদী ভয়াবহ কোনো কিছু ঘটে যাওয়া থেকে বেঁচে থাকবে দেশ। চট্টগ্রামে রোহিঙ্গাদের বসবাসের মধ্য দিয়ে পাহাড় অশান্ত হয়ে উঠলে দেশের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com