পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রমজানের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেছেন, রমজানের পূর্বাভাস নিয়ে হাজির হওয়া রজব মাস ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে সমাপ্তির দিকে। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ছে রমজানের আগমনী বার্তা। রমজানের প্রস্তুতি নেয়ার সময় এখনই। প্রতিটি মুসলমানের উচিত নিজেদের আল্লাহর কাছে নিবেদন করতে রমজানের আগেই যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
তিনি বলেন, রমজান মাসে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে। শবে কদরের রাত ও রমজান মাসে। শবে কদরের রাতে ইবাদত করা এক হাজার মাস ইবাদত করার সমতুল্য। রমজান মাসের প্রতিটি দিন রোজাদারদের দোয়া কবুলের সময়। সেই পবিত্র মাহে রমজান আসছে। এমন মহিমান্বিত একটি মাসের জন্য নিশ্চয়ই আমাদের মানসিক, শারীরিক ও উপযুক্ত রসদ নিয়েই প্রস্তুতি নেয়া উচিত। রমজানের আগেই দুনিয়ার যাবতীয় অকল্যাণ থেকে নিজেকে, সমাজকে মুক্ত রাখে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য প্রস্তুত হওয়া একান্ত জরুরি।
২২ মার্চ শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে সাইয়্যিদ মাওলানা আসআদ মাদানী রহ.এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিশেষ এক নেয়ামত স্বরূপ বান্দার জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার রমজান মাস মন্তব্য করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, রহমত, বরকত, নাজাত ও মাগফেরাতের মাস রমজান। এ মাসে মানুষ রোজা পালন ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জনে মশগুল থাকবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস পাওয়ার আশায় দুই মাস আগে অর্থাৎ রজব মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন এবং দুআ করে করে বলতেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি রজব ও শাবান মাসে আমাদের বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে রমজানে পৌঁছে দিন।’
রমজান মাসে মৃত্যু কামনা করে জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, দুনিয়াতে সবচেয়ে কষ্টদায়ক হচ্ছে মানুষের মৃত্যু। মৃত্যুর সময় মানুষ প্রচণ্ড শারীরিক কষ্টের সম্মুখীন হয়। মৃত্যুর কষ্ট বড়ই ভয়ঙ্কর। রাসূল সা. ও মৃত্যুর কষ্ট থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে মাফ চাইতেন। মৃত্যুর যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায় হলো রমজান মাসের মৃত্যু। রমজান মাসে মৃত্যুর কেন কষ্ট নেই। আল্লাহ তাআলার আমাদের সবাইকে রমজান মাসের মৃত্যু নসিব করুন। রমজান মাসের জুমার দিনের মৃত্যু নসিব করুন।
রজব, শাবান ও রমজান মাসে বেশি বেশি দান-সদকা করার কথা উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, রমজানের অন্যতম আমল দান-সদকা করা। রসূল সা. মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উদার ও দানশীল ছিলেন। তিনি এই মাসগুলোতে বেশি বেশি দান-সদকা করতেন। আমাদেরও উচিত নিজের সাধ্য অনুযাযী অনাথ, আর্ত, সহায়-সম্বলহীন ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য বেশি বেশি দান-সদকা করা।


