পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদেশে চাকরি প্রার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশ চাকরি প্রার্থীদের দেশের বাইরে যাওয়ার আগে সঠিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, যারা চাকরি নিয়ে বিদেশে যেতে চান, তাদের প্রশিক্ষণ নেয়ার আগ্রহ কম। অল্প কিছু টাকা খরচ করে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে বিদেশ যাওয়ার পর তারা বিপদে পড়েন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশে বিদেশে চাকরি প্রার্থী অনেক লোক দালালের খপ্পরে পড়ে জায়গা-জমি বিক্রি করে বিপদে পড়ে। তাদেরকে ভুল সিদ্ধান্তের জন্য দিনের পর দিন জেলে কাটাতে হয়। ওইসব মানুষদেরকে সঠিক তথ্য প্রদানের মাধ্যমে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
বাংলাদেশ কনস্যুলেট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে বলেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা চাকরি নিয়ে বিদেশে যেতে ইচ্ছুক সরকার তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। এই প্রশিক্ষণ তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় বিদেশে অবস্থানকালে তারা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হন। অনেক মানুষ যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকায় বিপদের শিকার হন। এটা খুবই দুঃখজনক এবং যাতে কেউ এ কাজ না করে সে ব্যাপারে মনোযোগ দেয়া দরকার।
প্রবাসীদের কল্যাণে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, বৈদেশিক অর্থের বড় অংশই আসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে। আমাদের দূতাবাস ও মিশনগুলো তাদের অর্থেই পরিচালিত হয়। তাই আমি চাই প্রবাসী কল্যাণ তহবিল তাদের কল্যাণেই ব্যবহৃত হোক। প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠায় এই তহবিল ব্যবহৃত হবে এবং সেই স্কুলগুলো এই তহবিল দিয়েই চলবে। কেননা প্রবাসীদের টাকা দিয়েই এই তহবিল গঠন করা হয়। আমাদের এটি মনে রাখতে হবে।
প্রবাসীদের কল্যাণে তাঁর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার তাদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে। আমরা প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নিয়েছি এবং যারা বিদেশ যেতে চায় তারা এজন্য এ ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদী পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। আমরা আগামী শতাব্দীতে দেশের অবস্থা এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কি হবে তা মনে রেখে ডেল্টা প্লান ২১০০ প্রণয়ন করেছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এ সাফল্য ধরে রাখতে হবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই দেশে একটা লোকও গৃহহীন ও ক্ষুধার্ত থাকবে না এবং আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, চারদিনের এক সরকারি সফরে বর্তমানে সৌদি আরবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নবীজী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র রওযা মোবারক জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার রাতে মদীনার মসজিদে নববীতে যান, সেখানে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র রওযা মোবারক জিয়ারত করেন। প্রধানমন্ত্রী মসজিদে নববীতে এশার নামাজ আদায় করেন এবং বাংলাদেশের জনগণের পাশাপাশি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ মোনাজাত করেন।


