পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অন্যসবার মতোই মাদরাসা ছুটির পর আনন্দচিত্তে বাড়ির দিকে যাত্রা করেছিল ভাটারা পূর্ব নয়ানগর হাজী আব্দুর সাত্তার মাদরাসায় নুরানী বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুল ইসলাম। রাজধানীর বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারালো এ শিশুটি।
মাদরাসার ছুটি উপলক্ষ্যে বাড়ি ফিরছিল সে। কিন্তু ফেরার পথেই বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল তার।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় রাজধানী ঢাকার গুলশানের নর্দা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আতিকুল ইসলাম (১১) ময়মনসিংহ তারাকান্দা উপজেলার পাগলী গ্রামের মো. শহিদুল্লার ছেলে। আতিকুল ইসলাম ভাটারা পূর্ব নয়ানগর হাজী আব্দুর সাত্তার মাদরাসায় নুরানীতে লেখাপড়া করতো।
নিহতের বড় ভাই জানিয়েছেন, মাদরাসা থেকে ১০-১২ জনের একটি দল ছুটিতে একসঙ্গে বাড়িতে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দিয়েছিল। পথে নর্দা ফুটওভার ব্রিজের নিচে রাস্তা পার হওয়ার সময় নতুনবাজারগামী একটি বাস আতিককে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল ১০টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
মাদরাসা শিক্ষার্থী আতিকুল ইসলামের মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তরুণ আলেমদের অনেককেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে। অনেকে লিখেছেন, আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যু নিয়ে স্ট্যাটাস থাকলেও মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিয়ে কোনো আওয়াজ নেই।
কেউ কেউ লিখছেন, মাদরাসা ছুটির পর কোনো ক্ষেত্রেই তাড়াহুড়ো গ্রহণযোগ্য নয়। রাস্তা পারাপারে বড়দের সহযোগিতা নেওয়া উচিত।
নিহত মাদরাসা শিক্ষার্থী আতিকুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরামের প্রেসিডেন্ট মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন বলেন, শিশুদের শিক্ষকদের সবার যত্নশীল হতে হবে। অভিভাবক ছাড়া শিশুদের প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়াই উচিত নয়।
তিনি বলেন, পরীক্ষার পর যখন ছুটি হয় তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে একধরনের আনন্দ কাজ করে। অভিভাবক সবচেয়ে বেশি গুরু দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কারণ, ছুটির পর শিক্ষকদের পক্ষে সবাইকে সামলানো সম্ভব নয়। এসব বড় ছাত্ররাও দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
সচেতনতার অভাবেই এধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মত দিয়েছেন অনেকে। এ দিকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যানুযায়ী, গত ছয় মাসে দেশে ২৮৬০টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৩০২৬ জন ও অাহত হয়েছেন ৮৫২০ জন। অার চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ২৩৩৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭৩০ জন আহত এবং ২৪১১ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৬৮৮ জন চালক-শ্রমিক, ৪৫৩ জন শিক্ষার্থী, ৫৯ জন শিক্ষক, ১৯ জন সাংবাদিক, ১৯ জন চিকিৎসক, ০৪ জন প্রকোশলী, ০১ জন আইনজীবী, ১৩৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ১৩৫ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ৪০০ জন নারী, ২৪৮ জন শিশু, ১৫৪ জন চাকরিজীবী এবং ৭৮৫৫ জন পথচারী ও অন্যান্য ব্যক্তি দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে বাস চালকদের বেপরোয়া গতি যেভাবে কমাতে হবে তেমনি সবাইকে সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।


