প্রাণ ফিরছে চীনের উহানে

প্রাণ ফিরছে চীনের উহানে

প্রাণ ফিরছে চীনের উহানে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চীনের উহানে প্রাণের স্পন্দন বাড়ছে। মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে উহান। এবার উহান শহরে দিন দিন কমছে মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যা। সপ্তাহখানেক ধরেই প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকা উহানে। শহরটির বেশ কয়েকটি সংস্থার অফিসও দ্রুত সময়ের মধ্যে খুলে দেয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে চীন সরকার।

বুধবার (১২ মার্চ) করোনা-অধ্যুষিত হুবেই প্রদেশ সফর করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। হুবেইয়ের উহান শহরেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানিও ঘটেছে এই শহরে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই ওই শহরে নতুন করে কোভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কম। কমেছে মৃত্যু সংখ্যাও। উহান বাদে হুবেই প্রদেশের অন্য কোনো শহরে গত বেশ কয়েকদিনে নতুন করে কেউ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হননি।

উহানও যাতে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে সেই প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে। এ শহরে অবস্থিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার অফিসগুলি প্রথমে খোলা হবে। তবে এখনি চালু হচ্ছে না হুবেইয়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আপাতত জাপানি গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা হুন্ডা উহানে তাদের অফিস খুলেছে। ২০ মার্চের পরে আরও কিছু সংস্থা কাজ শুরু করবে। হুবেইয়ের অন্য শহরগুলির জনজীবন স্বাভাবিক হচ্ছে ধীরে ধীরে। তবে উহান এখনও চীনের অন্য শহরগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন।

চিনপিং সরকার ঘোষণা করেছে, কোনো দেশ থেকে কেউ বেইজিংয়ে এলেই তাকে বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। অন্য দেশ থেকে নতুন করে এ ভাইরাস যেন চীনে না ঢুকতে পারে সে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। চীনে করোনাভাইরাসের আক্রমণে মৃতের সংখ্যা ৩১০০ ছাড়িয়েছে।

করোনাভাইরাসে বিশ্বে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৬ হাজার ৩শ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং ৪ হাজার ৬৩৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

এছাড়া এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ৬৮ হাজার ২৮৫ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিশ্বের ১২৪টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র চীনের মূল ভূখণ্ডেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৭৯৬ এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১৬৯ জনের। চীনের পর করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ইতালিতে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৪৬২ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৮২৭ জনের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *