মসজিদের জায়গায় রামমন্দির থাকার বক্তব্য ভিত্তিহীন
‘বাবরী মসজিদের জায়গায় রামমন্দির থাকার কোন প্রমাণ নেই’
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাবরী মসজিদের স্থানে কোনকালে মন্দির থাকার কোন প্রমাণ ইতিহাসের গ্রহণযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায় না।সমস্ত ঐতিহাসিক ও রাজনীতিবিদদের বিশ্লেষণে এমনটিই প্রমাণিত। তথাকথিত হিন্দু নেতারা বাবরী মসজিদের জায়গায় রামমন্দির থাকার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে তা ভিত্তিহীন।মুসলমানদের জিয়ারতের স্থান পবিত্র স্থান মসজিদ কখনো মন্দির হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন সর্বভারতীয় জমিয়তুল উলামার সিনিয়র আইনজীবি ও ভারতীয় মুসলিম পারসোনাল ‘ল’বোর্ডের আইনজীবী ড.রাজুউদ্দীন।
সম্প্রতি ভারতের বাবরী মসজিদ ইস্যুতে আদালতের সামনে হিন্দু আইনজীবীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সুপ্রিমকোর্টের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দাঁড়িয়ে এ মন্তব্য করেন।
মামলার ১৬তম দিনে হিন্দুদের প্রশ্নের জবাবে মুসলমানদের পক্ষ থেকে ড. রাজুউদ্দীন বাবরী মসজিদের জায়গার মালিকানা নিয়ে ঐতিহাসিক ঘটনা তুলে ধরে বলেন, সর্বপ্রথম শিয়া মুসলিমগণ তাদের নিজস্ব জায়গায় উপর এ মসজিদ নির্মাণ করেন।অতঃপর, তারা মসজিদের এই জায়গা ওয়াক্ফ করে দেন। ইসলামী আইন মোতাবেক ওয়াক্ফকৃত ভূমি কখনো সরকারের খাস জমি বলে গণ্য হবে না। বরং, এই জমি মসজিদের নামে বরাদ্দ থাকবে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্থানীয় মুসলমানদের।
হিন্দু আইনজীবীরা পূর্বেই আদালতে কয়েকটি ভ্রমণ কাহিনী ও ইতিহাসের একটি গ্রন্থের উদ্বৃতি দিয়ে বাবরী মসজিদের স্থানে রামমন্দির থাকার যে তথ্য তুলে ধরে তা সম্পর্কে ড. রাজুউদ্দীন বলেন, শুধুমাত্র ড. হেমিল্টন ব্যতীত সমস্ত ঐতিহাসিক এবং রাজনীতিবিদ এস্থানে মসজিদ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আর, ড.হেমিল্টনের অধিকাংশ বর্ণনা ভিত্তিহীন।
তিনি বলেন, কোন ইতিহাসবিদের বই থেকে উদ্বৃতি দেওয়ার আগে তার সসম্পর্কে ভালোভাবে জানা উচিৎ। অনেক ইতিহাসবিদ ধর্মীয় দাঙ্গা সৃষ্টির লক্ষ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য উপস্থাপন করে।
এর আগে বাবরি মসজিদ ও রাম ভূমি মন্দির নিয়ে আদালতে দুই পক্ষের উকিলদের বাগ-বিতণ্ডায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জমিয়তে উলামা হিন্দের চেয়ারম্যান মাওলানা সাইয়দ আরশাদ মাদানী গণমাধম্যে বিবৃতি দিয়ে বলেন, আমাদের উকিলরা বিশেষ করে ডক্তর রাজেদ ওয়ান আদালতে যে আলোচনা করেছেন, এই আলোচনার উপর আমরা নিশ্চিন্ত ও সন্তুষ্ট। এই মামলাকে আটকে রাখার অনেক প্রচেষ্টা সত্বেও আদালত এই মামলার রায়কে নিজের কাছে রেখেছে এবং এই মামলাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, আশা করি এই মামলা আমাদের পক্ষে যাবে।
এ ছাড়া বাবরী মসজিদ নিয়ে বিজেপি নেতাদের উগ্রতা আছে বলেও দাবি করেন আসামের ত্রাণকর্তা মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল।
গ্রন্থনা ও অনুবাদ : আহমাদ কাশফী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
সূত্র : ডেইলি হামারা সমাজ, দিল্লী


