‘বাবরী মসজিদ-রাম মন্দির নিয়ে উস্কানির বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থার আহ্বান’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাবরী মসজিদ-রাম মন্দির বিতর্ক ইস্যুতে যারা অপ্রয়োজনীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য দিবে তাদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান জামিয়তে উলামা হিন্দের চেয়ারম্যান, মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা আরশাদ মাদানী। তিনি বলেন, রাম মন্দির নিয়ে কিছু উগ্রপন্থী লোক বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে জনসাধারণকে উস্কে দিচ্ছে। এতে করে সমাজে বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ও অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

জমিয়তে উলামা হিন্দের চেয়ারম্যান মাওলানা আরশাদ মাদানী ভারতীয় গণমাধ্যমে এসব বিবৃতি দিয়েছেন বলে জানা যায়।

ডেইলি হামারা সমাজের প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায় ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার বাবরী মসজিদ-রাম মন্দির মামলার শুনানি পিছিয়ে গেল ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। আগামী জানুয়ারিতেই ঠিক হবে কবে ওই ইস্যুতে শুনানি হবে। ২৯ অক্টোবর সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি সঞ্জয় কিষাণ কৌল এবং বিচারপতি কে এম জোসেফের সমন্বিত বেঞ্চে ওই মামলার শুনানি হলে পরবর্তী শুনানি ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

বিশ্বের কোথাও মুসলিমরা বিতর্কিত স্থানে মসজিদ নির্মাণ করেনি মন্তব্য করে মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, শুধু ভারত নয়, বিশ্বের কোথাও মুসলিমরা বিতর্কিত স্থানে মসজিদ নির্মাণ করে না। কেননা মুসলিমরা বিতর্কিত স্থানে নামাজ পড়া বৈধ বলে মনে করে না। ফলে শুধু বাবরী মসজিদের জায়গা নয়, বিশ্বের কোথাও বিতর্কিত জায়গায় মসজিদ হয়নি।

আরশাদ মাদানী বলেন, বাবরী মসজিদ-রাম মন্দির মামলার শুনানি পিছিয়ে গিয়েছে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। এই মামলার শুনানি কেন পিছানো হয়েছে আমাদের জানা নেই, তবে সুপ্রিম কোর্টের ফায়সালা উগ্রপন্থীদের আবেগের দিকে লক্ষ্য না রেখে দলিল প্রমাণাদির ভিত্তিতে দিলে বাবরী মসজিদের রাম আমাদের পক্ষেই আসবে।

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ গত শনিবার কেরালায় বলেছেন, আদালতের এমন নির্দেশই দেয়া উচিত, যা পালন করা সম্ভব। এমন কোনো নির্দেশ দেয়া উচিত নয়, যাতে মানুষের আস্থায় আঘাত লাগে।
অমিত শাহের ওই মন্তব্যের পরেই বিরোধীরা বলতে শুরু করেছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের আমলে বিচার বিভাগকে লাগাম পরানো যাবে না বলে বিজেপি চাপের কৌশল শুরু করেছে। এদিকে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পূর্বক্ষেত্রের সংগঠন সম্পাদক শচীন্দ্রনাথ সিনহা বলেছেন, সংসদে যাতে আইন পাশ করে রামমন্দির প্রতিষ্ঠা সুনিশ্চিত হয় সেজন্য আগামী কালীপুজোর পরে গোটা নভেম্বর মাসজুড়ে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল, কংগ্রেস ও বাম এমপি’দের কাছে গিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হবে।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে ভারতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র রাজ্যসভার সদস্য বিনয় কাটিয়ার উগ্র বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, রাম মন্দির নির্মাণে বিশ্বের কোনো শক্তিই বাধা দিতে পারবে না। যদি মসজিদের দাবি অব্যাহত থাকে তাহলে সাড়ে ছয় হাজার বিতর্কিত মসজিদের উপরে আমরা দাবি জানাব। তিনি মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিনের প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি’র উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, উনি বলুক, মসজিদ কোথায় তৈরি করবেন, অযোধ্যায় তো রামলালা বিরাজমান আছে। এবার শুধু তা বিশালাকার করা হবে এবং দিব্যতা দেয়া হবে। খুব শিগগিরই সেখানে গ্র্যান্ড ও ঐশ্বরিক রাম মন্দির নির্মাণ করা হবে। বাবরী মসজিদ নামের কোনো জিনিস সেখানে অবশিষ্ট ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।

আরো বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন বিজেপি নেতা সুব্রমনিয়াম স্বামী। তিনি বলেছেন, ওখানে রাম মন্দির আগেও ছিল তাই রাম মন্দির ওখানেই তৈরি করতে হবে। মসজিদ যেকোনো স্থানে তৈরি হত পারে। সরযূ নদীর ওপারে মুসলিমরা মসজিদ নির্মাণ করতে পারে। তার দাবি, নামাজ যে কোনো জায়গায় পড়া যায় কিন্তু রামচন্দ্রের জন্মভূমি কখনো পাল্টানো সম্ভব নয়।

অনুবাদ এ গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সূত্র : ডেইলি হামারা সমাজ, উর্দু ডেইলি পত্রিকা
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *