পাথেয় রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ ও কামরাঙ্গীর চরের একাংশ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আমান উল্লাহ আমানের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই আসনে বিকল্প প্রার্থী তার ছেলে ইরফান ইবনে আমান অমিতের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
২ ডিসেম্বর রোববার প্রার্থিতা যাচাই বাছাই করে এই সিদ্ধান্ত জানান ঢাকার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান।
দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের কারাদ- পেয়েছেন আমান। আর সম্প্রতি তিনি উচ্চ আদালতে গিয়ে এই মামলায় স্থগিতাদেশ নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়েছেন। আর সংবিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে কারও দুই বছর বা তার চেয়ে বেশি দ- হলে সাজা ভোগের পাঁচ বছর পার না হওয়া পর্যন্ত তিনি ভোটে অযোগ্য হবেন। সম্প্রতি উচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, দ- বাতিল বা স্থগিত না হলে নির্বাচনে অংশ নেয়া যাবে না। এ কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ফেনী-১, বগুড়া-৬ এবং বগুড়া-৭ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
ঢাকা-২ আসনে আমানের প্রার্থিতা নিয়ে সংশয়ের কারণেই তার ছেলে ইরফান ইবনে আমান অমিতকেও মনোনয়নের চিঠি দিয়েছিল বিএনপি। আসনটি ঐক্যফ্রন্টে দলটির শরিক গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মণ্টুকে দেয়ার দাবি থাকলেও এখন পর্যন্ত তা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ২০০৮ সাল থেকেই আসনটিতে নির্বাচন করে আসছেন। ১৯৯১ সালের পর এখানে তার হাত ধরেই ১০ বছর আগে প্রথম জয় পায় আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালেও তিনি জেতেন।
এদিকে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় জমা দেয়া তিনটি আসনেই বাতিল হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা। এর মধ্যে একটি আসনে বিএনপির কোনো বৈধ প্রার্থী নেই। বাকিগুলোতে দলের বিকল্প প্রার্থী আছেন।
বিএনপির যারা বাদ পড়েছেন তারা মূলত ঋণখেলাপি এবং দুই বছরের বেশি সাজার কারণে বাদ পড়ে গেছেন। এদেরই একজন খালেদা জিয়া। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে দুই বছর বা তার চেয়ে বেশি সাজা হলে তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হবেন। খালেদা জিয়া দণ্ড হওয়া দুই মামলাতে আপিল করেছেন। তবে দলের পাঁচ জন দণ্ডিত নেতা তাদের সাজা স্থগিতের আবেদন নিয়ে উচ্চ আদালত থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসার পর বিএনপি নেত্রীর ভোটে আসার পথ এক অর্থে বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিএনপির মনোনয়নের চিঠি পাওয়া আরেক নেত্রী দণ্ড স্থগিত করতে পারলেও পরে আপিলে আটকে যান তিনি। ফলে দণ্ডিতদের ভোটে আসার পথ বন্ধ হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশন এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরকে জানিয়ছে, কেউ দণ্ড স্থগিত করতে না পারলে তার মনোনয়নপত্র যেন গ্রহণ করা না হয়।


