পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্বজুড়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টা ইন্টারনেট সংযোগ পেতে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু কেন? রাশিয়া টুডে সূত্রে জানা গিয়েছে, ডোমেন সার্ভারের রুটিন মেরামতের কারণেই ব্যহত হবে ইন্টারনেট। ওই সময়ের মধ্যে ওয়েব পেজ খোলায় সমস্যা হবে, ব্যাহত হতে পারে ইন্টারনেটের সঙ্গে জড়িত সমস্ত রকম লেনদেনও। এমনকি ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধও হয়ে যেতে পারে।
ইন্টারনেট করপোরেশন ফর অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নাম্বারস (আইসিএএনএন) ওই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করবে। এই রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ‘ক্রিপটোগ্রাফিক কি’ পরিবর্তন করা হয় যা ডোমেইন নেম সিস্টেম (ডিএনএস) বা ইন্টারনেট অ্যাড্রেস বুক সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
রাশিয়া টুডে-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, দ্য ইন্টারনেট কর্পোরেশন অব অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নাম্বারস (আইসিএএনএন) এই মেরামতির কাজ করবে। ইন্টারনেটের অ্যাড্রেস বুক বা ডোমেন নেম সিস্টেম(ডিএনএস)-কে সুরক্ষিত রাখার জন্য যে ‘ক্রিপটোগ্রাফিক কি’ রয়েছে তা বদলানোর কাজ চলবে এই সময়ে।
আইসিএএনএন জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে যে ভাবে সাইবার হানা বাড়ছে, হ্যাকরদের কবল থেকে ইন্টারনেটকে সুরক্ষিত রাখতেই এই ‘ক্রিপটোগ্রাফিক কি’ বদলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিউনিকেশনস রেগুলেটরি অথরিটি(সিআরএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডিএনএস-কে আরও সুরক্ষিত করতে এই সময়ের জন্য বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া জরুরি। সিআরএ আরও জানিয়েছে, নেটওয়ার্ক অপারেটরস বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার-রা (আইএসপি) যদি এই অবস্থার জন্য প্রস্তুতি না নেয় তা হলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। তবে সিস্টেম সিকিউরিটি এক্সটেনশন-কে যদি যথাযথ ভাবে সক্রিয় রাখা যায়, তা হলে কিছুটা হলেও এর প্রভাব আটকানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সিআরএ।
উল্লেখ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিয়ে সারা পৃথিবীতে একটা বিপ্লব হচ্ছে এবং আমরা সবাই আমাদের চোখের সামনে সেই বিপ্লবটা ঘটতে দেখছি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটির এই বিপ্লবটুকু যে বিষয়গুলোর জন্যে ঘটছে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে ইন্টারনেট। ১৯৬৯ সালের প্রথম ইন্টারনেটে ছিল মাত্র চারটি কম্পিউটার। এখন রয়েছে কোটি কোটি কম্পিউটার। সবাইকে কখনো না কখনো ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হবে।
ইন্টারনেট হচ্ছে নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক। ইন্টারনেট এর মাধ্যমে অসংখ্য কম্পিউটার একটা আরেকটার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। যখন কম্পিউটারের সাথে কম্পিউটারের যোগাযোগ হয়ে যায় তখন সবাই নানাভাবে সেই সুযোগটা গ্রহণ করতে চায়। সবচেয়ে সহজ সুযোগ হচ্ছে নিজের তথ্য অন্যের সামনে তুলে ধরা। আর সেটা করার জন্য যে ব্যবস্থাটা নেওয়া হয়, তাকে বলে ওয়েবসাইট। কেউ যদি কারও কাছ থেকে তথ্য নিতে চায়, তাহলে তার ওয়েবসাইটে যেতে হয়। সেখানে সব তথ্য সাজানো থাকে।


