১৬ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১২ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

ভারতের রাষ্ট্রপতি আসছেন আজ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে বুধবার সকালে ঢাকায় আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তিনি ১৯৭১ সালে দখলদার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ, আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাবেন।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। শ্রিংলা বলেন, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বাংলাদেশের জন্য ভারতের জনগণের অব্যাহত শুভ কামনা এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার বার্তা নিয়ে এ সফর করবেন।

বাংলাদেশ-ভারত চমৎকার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শ্রিংলা বলেন, রাষ্ট্রপতি এ সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতির উৎসাহব্যঞ্জক ধারাকেই শুধু আমলে নেবেন না; একুশ শতকের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো নতুন নতুন খাতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশের উপলক্ষ হবে এই সফর।

এই সফর নিয়ে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করেছে। তাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, ভারতের রাষ্ট্রপতির এই সফরে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্বাক্ষর সইয়ের আয়োজন নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী, মুজিববর্ষের সমাপনী দিন উদযাপন এবং বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতের রাষ্ট্রপতি এই সফর করছেন। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন ফার্স্ট লেডি এবং রাষ্ট্রপতির মেয়ে, ভারতের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, দুজন সংসদ সদস্য, পররাষ্ট্রসচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। রামনাথ কোবিন্দ ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি হবে বাংলাদেশে তাঁর প্রথম সফর।

সফরসূচি : ভারতের রাষ্ট্রপতিকে আজ সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তাঁকে বিমানবন্দরে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হবে। এরপর তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করবেন। সাভার থেকে ফিরে দুপুরে তিনি ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সোনারগাঁও হোটেলে ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহূত একটি টি-৫৫ ট্যাংক এবং একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে উপহার দেবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি আয়োজিত নৈশ ভোজে অংশ নেবেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ভারতের রাষ্ট্রপতি ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বিকেলে তিনি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীর ঐতিহাসিক মুহূর্তে জাতির পিতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং রক্তস্নাত বিজয়ের আবেগ ও আনন্দ উদযাপনের জন্য ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকারসহ অন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

সফরের শেষ দিন শুক্রবার ভারতের রাষ্ট্রপতি ঢাকার রমনায় কালীমন্দিরের সম্প্রতি সংস্কার করা অংশের উদ্বোধন এবং মন্দির পরিদর্শন করবেন। তিনি মন্দিরসংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত পরিসরে মতবিনিময় করবেন। শুক্রবার দুপুরে তিনি নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন।

সফরে সাক্ষাৎ হবে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধিদের সঙ্গে : বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধি, ভারতীয় সম্প্রদায় ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো সাক্ষাৎ হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে বিএনপির কোনো প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ পাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

২০১৩ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বাংলাদেশ সফরের সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁর সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছিলেন। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় খালেদা জিয়া সাক্ষাৎ করেছিলেন। এর পর থেকে আর ভারতের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের খবর পাওয়া যায় না।

সম্পর্কে অস্বস্তি নেই, মন্তব্য নেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়েও : নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে কোনো অস্বস্তি নেই। তিনি ভারতের কভিড টিকা সহযোগিতাসহ তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠেছিল, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের মার্কিন ভিসা বাতিল ও বাংলাদেশি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রভাব বাংলাদেশের উদযাপনের ওপর পড়বে কি না। জবাবে শ্রিংলা বলেন, ‘অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের মতো বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আমাদের দৃষ্টি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিকে। আমরা সাধারণত তৃতীয় দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কোনো মন্তব্য করি না। আর এই মুহূর্তে আমি এমন কোনো মন্তব্য করতে চাই না, যা এই সফর ও অগ্রাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।’

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com