ভারত ভাগের কান্না কি পৌঁছে জিন্নাহর কাছে
চৌধুরী আতিকুর রহমান [কলকাতা থেকে] : বাংলাদেশি (পাকিস্তানি) বন্ধুরা দেশভাগের ট্রাজেডিতে আমাদের ভাবনাটাকে কখনই গুরুত্ব দেন না। সবার আগে বলি, আমিও দ্বিখন্ডিত। আমারও বহু নিকট আত্মীয়স্বজন বর্ধমান-মুর্শদাবাদ থেকে বাংলাদেশ চলে গেছেন। তাঁদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে গেলে বহু কাঠ-খড় পোড়াতে হয়। আমার নানি শ্বাশুড়ি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন (আদতে সালার তালিবপুরের মেয়ে)। তাঁর মেয়ে (আমার শ্বাশুড়ি) বহু চেষ্টাতেও যেতে পারেননি। এই কষ্টটা কে বুঝবে? কে দায়ী?
অবশ্য বলতেই পারেন আপনার ব্যক্তিগত ট্রাজেডি বৃহত্তর জনতা কেন শুনবে?
কায়েদে আযম জিন্না অবশ্যই কবরে সুখে শুয়ে আছেন। তিনি কিভাবে ভাবলেন তাজমহল, দুই লালকেল্লা, জামা মসজিদ, পুরানা কিলা, হাউজ খাস, কুতব মিনার, আজমির, সিরাজ- টিপু সুলতানের স্মৃতি বিজড়িত এলাকা ছেড়ে সব মুসলিম পাকিস্তান চলে যাবে?
জিন্নার ভাবনার দৌড় কি তামিল, তেলেগু, কন্নড়, মালয়ালি মুসলিম পর্যন্ত ছিল?
আমি বাঙালি পূর্ব পাকিস্তানে চলে গিয়ে সর্ষে বাটা দিয়ে ইলিশ খাবো, বাংলায় গাইব আমার সোনার বাংলা….। বিহার, ইউপি-র ফ্রিজে গো মাংস আছে সন্দেহে শহিদ আখলাকের পূর্বপুরুষেরা উর্দু বলার জন্যে, তন্দুরি কাবাব খাওয়ার জন্যে পশ্চিম পাকিস্তান চলে যাবে। এতদূর পর্যন্ত মানা যায়।
কিন্তু যারা নারকেল তেলের রান্না খায়, টক ছাড়া যাদের রুচে না, যারা আর্য ভাষার পরিবর্তে দ্রাবিড় ভাষা বলে তারা কোথায় যাবে? জিন্না একবারও ভেবেছিলেন?
ভেবেছিলেন। জানতেন সব মুসলিম, অধিকাংশ মুসলিমই পাকিস্তান যাবে না। তারা ভারতেই তস্য সংখ্যালঘু হয়ে থেকে যাবে। কারণ, মন্টেগু-চেমসফোর্ড নির্বাচন বিধি ও তার সংস্কার বলে ৯০% দরিদ্র ভারতীয়ের ভোটাধিকার ছিল না। ট্যাঁকেরও জোর ছিল না।
নিজের সেকুলার ভাবনার বাইরে বার হতে পারেননি। ভাবতেন, নিজের আজীবন শিথিল ইসলাম ভাবনার মতই নড়বড়ে ইমান নিয়ে বা অমুসলিম হিসাবে টিকে যাবে।
যদিও জিন্না ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব মেনে অখন্ড ভারতের আওতায় লুজ ফেডারেশনের দিকেই ঝুকেছিলেন। তবুও মাউন্টব্যাটেন-নেহরু-প্যাটেল ত্রয়ীর (নেপথ্যে আরএসএস) বিপরীতে গিয়ে তিনি কঠোরভাবে ওয়াভেলের প্রস্তাবের পক্ষে থাকলে দেশ খন্ডিত হত না বলেই মনে হয়।
লেখক : কলামিস্ট
মতামত একান্তই লেখকের। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নয়


