ভাষা সৈনিক আবদুল জলিল আর নেই

ভাষা সৈনিক আবদুল জলিল আর নেই

ভাষা সৈনিক আবদুল জলিল আর নেই

পাথেয় টোয়োন্টিফোর ডটকম : যারা মাতৃভাষা রক্ষার জন্য আন্দোলন করেছিলেন তাদের সবসময় বাংলাদেশের মানুষ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করে থাকে। ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখা সেই ভাষা সৈনিক, বরেণ্য সাংবাদিক এবং সাপ্তাহিক লাকসামের প্রকাশক ও সম্পাদক আবদুল জলিল মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার লাকসামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিন ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবদুল জলিলের পরিবার।

পরিবার জানায়, বাদ মাগরিব লাকসাম উত্তর বাজার জামে মসজিদে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা ও উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হবে।

পারিবার আরও জানায়, ১৩ জানুয়ারি এই ভাষা সৈনিক নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। আজ মারা যান তিনি।

১৯৩৬ সালের ১ জানুয়ারি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার চন্দনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল জলিল। ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসার কারণে যোগদান করেছিলেন ভাষা আন্দোলনে। দক্ষিণ কুমিল্লার প্রাচীন সংবাদপত্র ‘সাপ্তাহিক লাকসাম’ এর প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন তিনি। তার লেখা নাটক ‘খুনে লাল বাংলা’ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ‘বৃহত্তর লাকসাম ও কুমিল্লা সংক্ষিপ্ত অধ্যায়’সহ জনপদ কথামালা, বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার সাংবাদিকতার উদ্ভব ও বিকাশের ইতিহাস, ওগো বঙ্গবন্ধু, সাগর তীরে কেওড়াবনে, পীর মুর্শিদের বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। সত্তরের দশকে তিনি উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা, খেলাঘর ও সুজন মজলিশের আঞ্চলিক সংগঠক হিসেব ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৫৮ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘লাকসাম লেখক সংঘ’র মাধ্যমে তিনি সৃজনশীল লেখক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক তৈরির প্রচেষ্টা চালান।

ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখা সেই ভাষা সৈনিক, বরেণ্য সাংবাদিক এবং সাপ্তাহিক লাকসামের প্রকাশক ও সম্পাদক আবদুল জলিলের মৃত্যুতে কুমিল্লা জেলা সাংবাদিকদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জেলা প্রেসক্লাব, সংবাদপত্র পাড়ায় চলছে তার মৃত্যু নিয়ে নানা আলোচনা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *