মাওলানা ফজলুল হক আমিনী রহ.

মাওলানা ফজলুল হক আমিনী রহ.

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশের ধর্মীয় রাজনীতিতে পরিচিত একটি নাম মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ.। তিনি ১৯৪৫ সালের ১৫ নভেম্বর বি-বাড়ীয়া জেলার আমীনপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ও দ্বীনদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বি, বাড়িয়াতেই প্রাথমিক শিক্ষার শুরুটা হয় এই আলেমের। এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপণের পর মুন্সিগঞ্জ জেলাধীন বিক্রমপুরের মোস্তফাগঞ্জ মাদরাসায় তিন বছর পড়াশুনা করেন তিনি। তারপর তারপর ১৯৬১ সালে রাজধানী ঢাকার জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদরাসায় চলে আসলে বিখ্যাত বুযুর্গ, মনীষা আলেমদের সান্নিধ্য লাভ করেন তিনি।

বর্ণিল জীবনের অধিকারী বাংলার এ বিখ্যাত আলেম ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে মহান প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে চলে যান।

মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ.-এর পরিবারে তাঁর এক স্ত্রী, দুই ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছেন। এছাড়া তিনি মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুরের জামাতা।

শিক্ষকতা জীবন : তিনি একজন ধর্মীয় চিন্তাবিদ হিসেবে যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছিলেন এবং তাঁর এই জ্ঞান তিনি শিক্ষকতার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ঢাকার জামিয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায়। এছাড়া তিনি বড় কাটারা আশরাফুল উলুম মাদরাসা ছাড়াও অসংখ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবন : ব্যক্তিগত জীবনে একজন ইসলামী প্রাজ্ঞ চিন্তাবিদ হলেও তিনি ছিলেন রাজনৈতিক দল ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান। আশির দশকে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল খেলাফত আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন তিনি। পরে তিনি খেলাফতে ইসলামী নামে আলাদা দল গড়েন এবং এর চেয়ারম্যান হন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হন। এছাড়া আমিনী ধর্মভিত্তিক একাধিক দলের মোর্চার সংগঠন ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির আমির (প্রধান) হিসেবে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।

সমালোচনা : মুফতি আমিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হয়। তিনি মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন মর্মেও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা। অনেকে মনে করেন, ইসলামী ঐক্যজোট থেকে শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. বের হয়ে গিয়েছিলেন তার কারণেই।

গৃহবন্দীত্ব : মুফতি আমিনীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় রাজনীতির নামে উস্কানীমূলক রাজনীতির অভিযোগ উঠায় সরকারের পক্ষ থেকে আমৃত্যু প্রায় দেড় বছর যাবৎ তাঁকে লালবাগ মাদ্রাসা সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের মধ্যে অঘোষিত গৃহবন্দী ছিলেন। ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল মুফতি আমিনীর ছোট ছেলে মাওলানা আবুল হাসনাত অপহরণের পর ১২ এপ্রিল জোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী মুফতি আমিনীর পক্ষে নিরাপত্তা চেয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করলে আমিনীর নিরাপত্তার আবেদন কৌশল হিসেবে নিয়ে তাকে কার্যত বন্দী করে রাখা হয়। প্রায় ১৩ মাস গৃহবন্দী থাকার পর শুধু ১৫ মে ২০১২ পটিয়া মাদ্রাসার বিশিষ্ট আলেম শাহ মোহাম্মদ আইয়ুবের জানাজায় অংশ নিতে পুলিশ প্রহরায় চট্টগ্রাম যান এবং জানাযা শেষে ঐ দিনই ঢাকা প্রত্যাবর্তন করেন।

মৃত্যু : ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মুত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। মৃতের জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে, আর তাতে অংশগ্রহণ করেন অগণিত ধর্মপ্রাণ মুসলমান।জানাযা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয় তাঁরই শিক্ষাদানক্ষেত্র জামিয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার শাহী মসজিদের কবরস্থানে।

গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *