পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানবে না মন্তব্য করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, তার দেশ ও মিত্ররা মিলে মার্কিন সরকারের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা মানবে না। ইরান-বিরোধী দ্বিতীয় ধাপের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পরপরই তিনি একথা বললেন।
ইরানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ৫ নভেম্বর সোমবার এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট রুহানি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের খুব ভালোভাবে এই নিষেধাজ্ঞা ভাঙতে হবে এবং আমরা তা করব। তিনি বলেন, জনগণের সহায়তায় এবং সমাজের বিরাজমান ঐক্যের মাধ্যমে আমরা মার্কিনীদেরকে বুঝিয়ে দেব যে, তাদের অবশ্যই মহান ইরানি জাতির সঙ্গে শক্তি, চাপ ও হুমকির ভাষায় কথা বলা উচিত না। এইসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তাদেরকে অবশ্যই একসময় শাস্তির মুখে পড়তে হবে। তিনি বলেন, মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞায় ইউরোপও ক্ষুব্ধ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু হওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর প্রশাসনের নীতির কারণে ইরান ইতিমধ্যে সংকটে পড়ে গেছে। তিনি বলেন, ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইরানের ওপর এযাবৎ আরোপ করা সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এটাই কঠোর। এখন আমরা দেখব, ইরান কী করে, কিন্তু তারা খুব ভালো কিছু করছে না, আমি এটা আপনাদের বলতে পারি।
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষার রাশ টেনে ধরতে ২০১৫ সালে করা পারমাণবিক চুক্তি গত মে মাসে প্রত্যাহার করে নেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, তেহরানের ‘ক্ষতিকর’ কর্মকাণ্ড, যেমন: সাইবার হামলা, আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও মিলিশিয়াদের সহায়তা করা বন্ধ করতে চায়।
এ ছাড়া ইরানকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্রাসেলভিত্তিক সুইফ নেটওয়ার্ক ইরানের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেনদেনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে থাকা আরও তিনটি দেশ—যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স—এই নিষেধাজ্ঞার বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তারা ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা ইরানের সঙ্গে ‘বৈধ বাণিজ্য’ চালিয়ে যাবে। লেনদেনের জন্য বিকল্প কোনো পদ্ধতি বা বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত যানবাহন স্পেশাল পারপাজ ভেহিকল (এসপিভি) স্থাপন করবে। এরা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি না হয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সহায়তা করবে।


