বিজেপি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে : অখিল গগৈ

বিজেপি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে : অখিল গগৈ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতে বিজেপি বিজেপি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করে ভারতের বিজেপিশাসিত অসমের কৃষক নেতা অখিল গগৈ বলেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে হিন্দু হিন্দু করে জাতির অস্তিত্ব শেষ করে দিতে চাচ্ছে সরকার। এই রাজ্যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। সেজন্য এখন সমন্বয়ের অসম গড়ে তোলার সময় এসেছে। এজন্য সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

৪ নভেম্বর রোববার গুয়াহাটির কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এক সভায় অসমের কৃষক নেতা অখিল গগৈ এসব কথা বলেছেন বলে জানা যায়।

গুয়াহাটির কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এ সভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, ২০১৬-এর বিরুদ্ধে ৬০টির বেশি সংগঠন ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, ২০১৬-এর বিরুদ্ধে সর্বভারতীয় স্তরে আন্দোলন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এই সভায় ভারতের বিজেপিশাসিত অসমের কৃষক নেতা অখিল গগৈ বলেছেন, হিন্দু হিন্দু করে জাতির অস্তিত্ব শেষ করে দিতে চাচ্ছে সরকার।

লক্ষীনাথ তামুলি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বাতিল না হলে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সব ধরণের কর্মসূচি বয়কট করার আহ্বান জানান। পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা ওই সভায় একাংশের বক্তারা আগামী ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন ও ২০২১ সালে অসম বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রে ও রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারকে ছুঁড়ে ফেললে তবেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল রোধ করা সম্ভব হবে বলে মত প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে বিজেপির হাত থেকে শাসন ক্ষমতা কেড়ে না নিলে ওই বিল রোধ করা সম্ভব হবে না।

বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী হীরেন গোঁহাই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলনের ওপরে জোর দিয়েছেন। বিভিন্ন রাজ্যের এমপিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রস্তাবিত ওই বিলের বিরোধিতা করার আহ্বান জানানো হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। অসমে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল, ২০১৬ আইনে পরিণত হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন ও পার্সি যারা এদেশে আশ্রয় নিয়েছেন তারা নাগরিকত্বের সুবিধা পাবেন।

এর আগে এনআরসির সমন্বয়ক বলেছেন, এটা শুধুমাত্র চূড়ান্ত খসড়া, চূড়ান্ত তালিকা নয়। যাদের নাম প্রকাশিত হয়নি, তারা অভিযোগ জানানো বা সংশোধনের আবেদন জানাতে পারবেন। এনআরসি খসড়া তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র গোলযোগের আশঙ্কায় অসমের বরপেটা, ডিমা হাছাও, সোনিতপুর, করিমগঞ্জ, গোলাঘাট, ধুবড়ীসহ ৭ জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। অসম ও প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আধাসামরিক বাহিনীর ২২ হাজার জওয়ানকে পাঠানো হয়েছে। রাজ্য পুলিশকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেয়াসহ সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, আজ অসমে এনআরসি’র খসড়া তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সকলেই জানেন এটা চূড়ান্ত তালিকা নয়, যেকোনো ব্যক্তির অভিযোগ ও দাবি জানানোর সুযোগ দেয়া হবে। আইনে এর সুযোগ রয়েছে। যেকোনো ব্যক্তি শুনানির সম্পূর্ণ সুযোগ পাবেন। এরপরেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে। কিছু মানুষ ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি সকলকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, কোনোপ্রকার ভয় বা আশঙ্কার কোনো প্রয়োজন নেই। এনআরসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে করা হয়েছে। হতে পারে কিছু মানুষ প্রয়োজনীয় নথি দিতে পারেননি। এজন্য তাদেরকে দাবি ও অভিযোগ জানানোর পূর্ণ সুযোগ দেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *