পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মুখের মাস্ক যথাযথভাবে নাক ও কপাল মাটিতে ঠেকিয়ে সিজদা আদায়ে বাঁধা দিচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে সচেতন ও মুফতিদের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেন, সিজদা নামাযের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। সিজদার প্রস্তুতি নিতেই নামায শুরু করি আমরা। সিজদা আদায়ের জন্য নাক ও কপাল পরিপূর্ণরূপে মাটিতে লাগা জরুরি। বর্তমানের করোনাভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুখে পরে থাকা মাস্ক যদি শক্ত গোছের হয় তবে তাতে নাক মাটিতে পরিপূর্ণরূপে ঠেকে না। তবে মাস্ক নরম হলে কোন সমস্যা নেই। এ বিষয়ে সবিশেষ জানতে মুফতিদের শরণাপন্ন হওয়া উচিত সকলের।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) খিলগাঁও হাজীপাড়া ঝিল মসজিদে জুমার বয়ানে তিনি এসব বলেন।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, ইসলামের বিষয়গুলো দুই ভাগে বিভক্ত। এক. আকায়েদ তথা বিশ্বাস ও ঈমানের সাথে সম্পর্কিত বিষয়াদি আর দুই. আহকামাত তথা আমলের সাথে সম্পর্কিত বিষয়াদি। ঈমানের সাথে সম্পর্কিত বিষয়াদিতে ইসলামে ও শরীয়তে কোনধরণের ছাড় দেয়া হয় নি। ঈমানের বিষয়ে ইসলামে কোন আপোষ হয় না। ঈমান আর শিরক কখনো একসাথে একত্রিত হতে পারে না। এটা অসম্ভব।
ঈমানের সাথে অন্য কিছুর কোন আপোষ নেই এর উদহারণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, কেউ কয়েকদিন মিথ্যা বলবে কয়েকদিন মিথ্যা বলবে না, কয়েকদিন ঘুষ খাবে কয়েকদিন খাবে না, কয়েকদিন চুরি করবে কয়েকদিন করবে না এমন কোন ছাড় ইসলামে দেয়া হয় নি। কারণ ঈমানের বিষয়ে ইসলামে কখনো কম্প্রোমাইজ হয় না, কোন আপোষ হয় না।
তবে আমল আর আহকামাত সম্পর্কিত বিষয়ে ইসলামে ছাড় রয়েছে জানিয়ে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ব্যক্তির অপারগতার ভিত্তিতে আমলে ছাড় প্রদান করা হয়েছে। অবস্থা অনুসারে আমলে আল্লাহ তাআলা শিথিলতা রেখেছেন। নামায ঘরে থাকলে চার রাকাত সফরে গেলে ২ রাকাত। অসুস্থ্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ আদায়। নামাযের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে সেজদা না করলেও চলবে মাযুর ব্যক্তির এরকম অসংখ্য ছাড় আমলের মধ্যে আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন।
মাযুর বা অপরাগ ব্যক্তি সে সত্যিকারার্থে মাযুর কিনা তা যাচাই করে নেয়াটাও ইসলামে জরুরী বলে জানান ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
/এএ


