১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২১শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

মাহমুদউল্লাহর চোখে এখনও ক্রাইস্টচার্চের দুঃস্বপ্ন

মাহমুদউল্লাহর চোখে এখনও ক্রাইস্টচার্চের দুঃস্বপ্ন

পাথেয় রিপোর্ট : নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ আল নূর মসজিদে ঘটে যাওয়া দুঃস্বপ্ন ভুলতে চান বাংলাদেশ জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি বলেন, ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার দুঃস্বপ্ন ভুলতে ক্রিকেটাররা উন্মুখ ছিলেন পরিবারের কাছে ফিরতে, দেশের নিরাপদ বলয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে। নিউ জিল্যান্ডে টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেওয়া মাহমুদউল্লাহ ঢাকায় পৌঁছানোর পর জানান, খুব ভাগ্যবান বলেই ফিরে আসতে পেরেছেন তারা।

আমি যে কিভাবে শুরু করবো…আমরা খুব ভাগ্যবান। আমরা যে এখানে বসে আছি, আপনাদের সবার দোয়ায়। বাবা-মা, পরিবার-পরিজন সবার কাছে ফিরে আসতে পেরেছি।
শুক্রবার দুপুরে ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে যাওয়ার পথে যে দৃশ্য দেখেছেন তা বর্ণনাতীত বলে জানালেন টেস্ট দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক।

শনিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেখানেই সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানান মাহমুদউল্লাহ।

এটা বর্ণনা করতে পারবো না আমরা কিসের মধ্যে আছি, আমরা কি দেখেছি। নিউ জিল্যান্ডের মতো দেশে এমন ঘটনা খুবই অপ্রত্যাশিত। আমি, আমাদের দলের সবাই সারারাত ঠিকমতো ঘুমাতেও পারিনি। যখন রুমের মধ্যে ছিলাম তখন বুঝতে পারছিলাম আমরা কতটা ভাগ্যবান। আর সবচেয়ে বড় কথা নিউ জিল্যান্ডের মতো দেশে এরকম ঘটনা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক।

সেই ঘটনার পর কেবল যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরার কথাই ভাবছিলেন ক্রিকেটাররা। ফিরে স্বস্তি ফিরেছে তাদের মনে।

বোর্ডের সঙ্গে যখন আমাদের কথা হলো, উনারা তাড়াতাড়ি আমাদের ফেরার ব্যবস্থা করলেন এজন্য বিসিবিকেও ধন্যবাদ, পাপন ভাইকেও ধন্যবাদ। উনারা আমাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন। এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ। কৃতজ্ঞতা সবার কাছে।

দোয়া চাই যেন এই মানসিক অবস্থা থেকে যেন আমরা তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসতে পারি। আর নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকেও ধন্যবাদ।

ক্রাইস্টচার্চেই শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল নিউ জিল্যান্ড-বাংলাদেশ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। আগের দিন শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয় ৪৯ জন।

ওই দুই মসজিদের একটি, আল নূর মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশ দল যেখানে অনুশীলন করছিল, সেই হ্যাগলি ওভালের কাছেই আল নূর মসজিদ। অল্পের জন্য দল রক্ষা পায় হামলার শিকার হওয়া থেকে।

মসজিদে হামলার পর হোটেলে ফিরে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ বলেছিলেন, টিম বাসে করে মসজিদের ৫০ গজ কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন তারা। পরে মসজিদ থেকে রক্তাক্ত মানুষদের বেরিয়ে আসতে দেখে তারা থমকে যান।

পরে বাস থেকে নেমে হ্যাগলি পার্কের মাঝ দিয়ে ফিরে আসেন মাঠে। পরে ফেরেন হোটেলে। আর ৩-৪ মিনিট আগে পৌঁছে গেলেও তারা মসজিদের ভেতরে থাকতেন।
ভয়াবহ ওই হামলার পর টেস্ট বাতিল হয়। পরদিনই ঢাকার পথ ধরেন ক্রিকেটাররা।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com