পাথেয় টোয়েন্টি ফোরডটকম : দেওবন্দ : ভারতের বিখ্যাত দায়ী হযরত মাওলানা কালীম সিদ্দীকিকে প্রধান অতিথি করে বিগত ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দেওবন্দের নিউ রোশনী পাবলিক স্কুলে মহিলাদের জন্য ‘হামারে মাসায়েল আওয়ার দাওয়াত কে উনওয়ান’ শীর্ষক একটি আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহল্লার সহস্রাধিক নারী অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় মাওলানা কালীম সিদ্দিকী বলেন, বর্তমান সমস্যার সমাধান নারীদের কাছেই আছে। মানুষের স্বভাবপ্রকৃতি ও সর্বাবস্থায় সবচেয়ে বেশী প্রভাব থাকে নারীর। পৃথিবীর অনেক বড়ো বড়ো মনীষী যেমন, সাহাবায়ে কেরাম রা. তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন, আইম্মায়ে কেরাম, নেতা, বিদ্বান ও চিন্তকরা মায়ের প্রতিপালন দ্বারাই এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছেন। বাবার চাইতে কয়েকগুণ বেশি দায়িত্ব রাখেন মা। সন্তানের সার্বিক উন্নয়ন হয় মায়ের যত্নেই। তাই সন্তানের দ্বীনি ও জাগতিক সব শিক্ষায় সন্তানের উৎকর্ষ লাভে বাবার চেয়ে মায়ের ভূমিকাটাই মূখ্য। একজন মা-ই সন্তানের প্রকৃত শিক্ষক।
তিনি বলেন, রাসুল সা.-এর কোনও কোনও মজলিসে সংখ্যায় মেয়েরা পুরুষের তুলনায় কম হতো না। বরং কোথাও বেশিই হতো। এরদ্বারাই বোঝা যায় নারীদের জন্য দ্বীন শেখাটা কতো জরুরি।
মাওলানা সিদ্দিকী বলেন, ইসলাম জ্ঞানার্জন ও শিক্ষালাভে নারী পুরুষের মাঝে কোনও পার্থক্য করেনি। বরং দু’জনকেই সম অধিকার দিয়েছে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নারীর শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো সে একজন আনুগত্যশীল স্ত্রী ও একজন শ্রেষ্ঠ মা হবে। এবং আমল আখলাক ও চরিত্রে এমন প্রতিবিম্ব হবে যা অনুকরণীয়।
আল্লাহ তায়ালা শুধু নবী কারীম সা.কে পড়ার আদেশ দিয়েছেন এবং তার মাধ্যমে সমস্ত উম্মতকেও আদেশ দিয়েছেন জ্ঞানার্জনের। নবী সা. পুরুষদের জন্য যেভানে রাসূল হয়ে এসেছেন, ঠিক তেমনি নারীদের জন্যও।
তিনি বলেন, পৃথিবীর বংশানুক্রমিক ধারাবাহিকতা রক্ষা ও আমাদের বংশ বিস্তারে নারীই অর্ধেক। তাদেরকেও মহান রাব্বুল আলামীন মেধা, যোগ্যতা ও সততার প্রাচুর্যতা দান করেছেন। বলা হয়, মায়ের কোলই হলো সেই প্রথম মক্তব, যেখানে একটি শিশুর মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটে এবং তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এখান থেকেই ব্যক্তিত্ব গঠন হয়। মেধা ও মস্তিষ্ক সঠিক ও শুদ্ধ বিষয়াদির চিন্তা করে তা নিজের শেষ জীবন পর্যন্ত উপলব্ধি করতে থাকে। ইসলাম নারীর শিক্ষা ও শিষ্টাচারের প্রতি শুধু গুরুত্বই দেয়নি বরং পুরুষের যতোটা প্রয়োজন ঠিক সেই পরিমাণই বলা হয়েছে নারীদের ক্ষেত্রেও। পরে মাওলানা সিদ্দকী পাবলিক স্কুল আয়োজিত এ সেমিনারের প্রশংসা করেন এবং তাদের জন্য দোআ করেন।
স্কুলের ম্যানেজার ফায়েজ সেলিম বলেন, আমাদের স্কুলে জাগতিক শিক্ষার পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসও অন্তর্ভুক্ত করা আছে। কুরআনে কারীম, মাসায়েল ও আকায়েদ, দরসে হাদীস, ইসলামী সাধারণ জ্ঞান এগুলো প্রাথমিক ক্লাসগুলোতে রাখা হয়েছে। ক্লাস সিক্স থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কুরআনের অনুবাদ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাচ্চাদের মেধাকোষগুলো খুব কোমল ও নরোম হয়। সেগুলো একদম শূন্য থাকে। তাই, তখন যদি তাদের ভালো কিছু শেখানো হয় তাহলে তারা ভালোই শিখবে। কেননা তাদের তো কিছু না কিছু শিখতে হবে। তাই সেসময় যদি তাদের মন্দ শেখানো হয়, তাহলো তারা মন্দই শিখবে।
তিনি আরো বলেন, মনুষ্য সমাজ ও সুন্দর পরিবার গঠনে একজন পুরুষের চেয়ে মায়ের প্রয়োজন অনেক বেশী। তাই নারীদের ভেতর যখন দ্বীনের পূর্ণ অবস্থা তৈরী না হবে তখন বাচ্চাদের শিক্ষা ও শিষ্টাচারেও এর প্রভাব পড়বে। তাদের সুশৃঙ্খলভাবে বৃদ্ধি কষ্ট হয়ে যাবে।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
তথ্যসূত্র : ডেইলি হামারা সামাজ, দিল্লী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


