মোদিকে রুখতে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহর কালো দিবস ঘোষণা
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: প্রধানমন্ত্রী গো ব্যাক, ফিরে যান বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিম বাংলা রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আমরা জানতে পেরেছি আগামী কাল (১১ জানুয়ারি ২০২০) শনিবার ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতায় আসবেন বলে জানা গেছে। ভারতবর্ষের আপামর জনতা একশো ত্রিশ কোটি মানুষ, প্রায় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে আছে এনআরসি, কেএএ-এর বিষয়ে। ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মানুষের অন্তরে আঘাত দিয়েছেন।
ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মানুষের অস্তিত্ব বিপন্ন করেছেন বলে মন্তব্য করে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আরএসএস, বিজেপি ঠিক করে দেবে ভারতবর্ষে কে থাকবে আর কে থাকবে না।এই মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরী করেছেন তারা। ভারতবর্ষজুড়ে আন্দোলন চলছে। সে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ইতোপূর্বে ভারতবর্ষের কোনো সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত হয়নি। এ স্বতস্ফূর্ত, নিজে নিজে সংগঠিত হয়েছে। বুদ্ধিজীবিরা করছেন, ছাত্ররা করছেন, সাংবাদিকরা করছেন, মসজিদের ইমামগণসহ অনেকেই করছেন। এখানে বর্ণ, ধর্মের ঊর্ধ্বে ওঠে সবাই মাঠে নেমে এসেছেন।
১০ জানুয়ারি ২০২০ শুক্রবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এ আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই ভুলের বিরুদ্ধে বসে না থাকার ঘোষণা দিয়ে সিদ্দিকুল্লাহ বলেছেন, জমিয়তে উলামা হিন্দের মতো প্রাচীন সংগঠন এই পরিস্থিতিতে আমরা কিছুতেই বসে থাকতে পারি না। রাজ্য কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী কাল (১১ জানুয়ারি ২০২০) শনিবার কালা দিবস পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী গো ব্যাক। ফিরে যান। এই আওয়াজ তুলুন। আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ। ট্রেন অবরোধ, বাস অবরোধ, রাস্তা অবরোধ কিন্তু আমাদের কর্মসূচি নয়। প্রতিটি জেলা শহরের অফিসে সবাই জমায়েত হবেন।কালো পতাকা দেখাবেন। জমিয়তের পতাকা সঙ্গে থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর নামে একটা খোলা চিঠি দেবো, সেটা আপনারা পড়ে শোনাবেন। এনআরসির বিষয়, এনপি আর-এর নতুন নতুন ফর্মুলা- কোনোভাবে মেনে নেওয়া যাবে না।
রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী প্রতিবাদ করায় তিনি তার প্রশংসা করেন।
জমিয়তে উলামা হিন্দের জেলা ও রাজ্যের নেতৃত্বকে যারা ভালোবাসেন সুশৃঙ্খলভাবে এই আন্দোলনে শরীক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাজ্য সভাপতি বলেন, সুশৃঙ্খলভাবে এই প্রতিবাদ ও কালো দিবস পালন করবেন। যত বেশী পারবেন কালো পতাকা নিয়ে উপস্থিত থাকবেন। যাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জেনে যান, বাংলার মানুষ এনপিআর চায় না। এনআরসি চায় না। বাংলার মানুষ সিএএ চায় না। এই হঠকারী বন্ধ হতে হবে।


