যমুনার ভাঙনে ডুবে গেছে ৩৫০ হেক্টর জমির ফসল

যমুনার ভাঙনে ডুবে গেছে ৩৫০ হেক্টর জমির ফসল

পাথেয় ডেস্ক : গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব কঞ্চিপাড়া (বালাসী রেলগেট) এলাকায় যমুনা নদীর পানির চাপে একটি রাস্তার প্রায় ১০ মিটার অংশ ভেঙে গেছে। এতে করে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছেন তিনটি গ্রামের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও প্রায় তিন হাজার মানুষ। ভাঙা ওই অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে নিমজ্জিত হয়েছে প্রায় ৩৫০ হেক্টর আমন ধানের জমি।

স্থানীয়রা বলছে, পূর্ব কঞ্চিপাড়া গ্রাম থেকে বালাসীঘাট রেলওয়ের দক্ষিণ দিকে খোলাবাড়ী ও উড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর উড়িয়া গ্রামে যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তা রয়েছে। এই রাস্তাটি দিয়ে এসব এলাকার দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও প্রায় তিন হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। প্রতিবছর যমুনা নদীতে পানি বেড়ে গেলে এই রাস্তাটির উপর দিয়ে পানির স্রোত বয়ে যায় ও রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। গত ছয় মাস আগে এই রাস্তাটি টিআর প্রকল্পের টাকা দিয়ে পুনরায় মেরামত করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে রাস্তাটির প্রায় ১০ মিটার অংশ ভেঙে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভেঙে যাওয়া ওই রাস্তাটি যমুনা নদী সংলগ্ন। ফলে প্রতিবছরই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে এই রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। কেননা ভেঙে যাওয়া রাস্তার ওই অংশের পশ্চিম পাশ দিয়ে চলাচল করছে নৌকা। আর সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে অনেকগুলো বিদ্যুতের তার। তাই দ্রুত ভেঙে যাওয়া ওই রাস্তাটি মেরামত করে দেয়ার দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল হামিদ সরকার বলেন, রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় খোলাবাড়ী গ্রামের গৌড়িপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব কঞ্চিপাড়া গ্রামের দক্ষিণ রসুলপুর জান্নাতুল আত্বফাল নুরানী হাফেজিয়া মাদরাসাসহ কঞ্চিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং বালিকা বিদ্যালয়সহ কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও প্রায় তিন হাজার মানুষকে দুপুর থেকেই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। প্রশাসনের লোকজন এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বালুর বস্তা ফেলে ভেঙে যাওয়া রাস্তার অংশটি মেরামত করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানালেন এই ইউপি সদস্য।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, যদিও রাস্তাটি আমাদের আওতায় নেই তবুও আমরা বস্তা দিয়ে রাস্তাটি মেরামত করার চেষ্টা করব।

গাইবান্ধা জেলা প্রসাশক গৌতম চন্দ্র পাল ঢাকাটাইমসকে বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে আমাদের জেলার নদী এলাকার মানুষগুলোর কষ্ট বেড়ে যায়। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নিয়ে জরুরি কিছু কাজ করছি। যেসব রাস্তা নদীর পানির চাপে ভেঙে যাচ্ছে তা জরুরিভাবে মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *