রমজানে বাজারের ঊর্ধ্বমুখিতা ঠেকান

রমজানে বাজারের ঊর্ধ্বমুখিতা ঠেকান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশের হালচাল এমনই, বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যের বাজার যেখানে দোকানগুলোতে নানা ধরনের মূল্যছাড়ের হিড়িক সেখানে আমাদের বাজারে আগুন। কেবলই বেড়ে যায় পণ্যের দাম। ঈদ উপলক্ষে যেনো একটা বিশাল মৌসুম। এটা কেউই ছাড়তে চায় না। ম্যাজিস্ট্রেট এলে কলার ডজনে দাম কমে যায় পঞ্চাশ থেকে চল্লিশ টাকা।

মানুষের নৈতিক অবক্ষয় কী পরিমাণের হয়েছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। বাজারে গেলেই দোকানী সাধারণ রমজানের দোহাই দেবেন, দেবেন ঈদের দোহাই। রমজান কেন এলো, কেন আসছে ঈদ, এ কারণেই দাম বাড়াতে হবে। প্রতি বছরই সরকার নানা পদক্ষেপ নেন, কিন্তু বাস্তবতা আগের জায়গাতেই থেকে যায়। নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। এমনিতেই রোজার মাসে ইফতারির কারণে কিছু কিছু পণ্যের চাহিদা সারা বছরের চেয়ে বেশি থাকে।

সারা বছর এসব পণ্যের চাহিদা যা থাকে রোজার মাসে তার চেয়ে অনেক বেশি বিক্রি হয়। আর এই সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। আবার দেখা যায় বাজারভেদে একই পণ্য বিক্রি হচ্ছে ভিন্ন দামে বা বাড়তি দামে। কোনো বাজারে হয়তো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে, সেই পেঁয়াজই অন্য বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজি দরে। আবার কোনো বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি দরে। এই গরুর মাংস আবার অন্য বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫২০ থেকে ৫৩০ টাকা কেজি দরে। শুধু মাংস কিংবা পেঁয়াজ নয়, শাকসবজি থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্যই বাড়তি দামে শুধু নয়, বাজারভেদে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারভেদে পণ্যমূল্যের এই যে ফারাক, তার একটি কারণ অবশ্যই অতি মুনাফার লোভ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তদারকির অভাব। রোজার শুরু থেকেই সব বাজারে অভিযান পরিচালনা করা দরকার ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করছে। যেদিন যে বাজারে তদারকি দল যাচ্ছে, সেখানে তার প্রভাব পড়ছে। এরই ফাঁকে ব্যবসায়ীরা যে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছেন না তা নয়। সিটি করপোরেশন গরু ও খাসির মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিলেও সব ব্যবসায়ী তা মানছেন না।

তবে যেখানে অভিযান চালানো হয়েছে বা তদারকি দল গেছে, সেখানে নির্দিষ্ট করে দেওয়া দামেই মাংস বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বেড়েছে মাছের দাম। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকার পরও সব বাজারেই শাকসবজির দাম বেড়েছে। ফলের সরবরাহ ভালো থাকার পরও সব ধরনের ফলের দাম বেড়েছে। শুধু মাংসের দোকানে নয়, সব ধরনের দোকানে মূল্যতালিকা টাঙিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও বেশির ভাগ ব্যবসায়ী তা মানছেন না।

রোজায় নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষের কথা ভেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাজারে অভিযান পরিচালনা করলে বাজারে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে সাধারণ মানুষ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *