রাজধানীর খাল উদ্ধার করুন
জলাবদ্ধতা কমান
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাজধানীর খাল কেবল গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখন গ্রামেও গুরুত্ব বাড়ছে খালের। গ্রামের মানুষদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়াটা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ, যেভাবে রাজধানী বিপদের মধ্যে পড়েছে। বিস্ময়কর হলেও সত্য, ঢাকা শহরে একসময় ৫৪টি খাল ওয়াসার রক্ষণাবেক্ষণে থাকলেও এখন আছে মাত্র ২৬টি। বাকি খালগুলোর মধ্যে ১১টি ডিএনডি বাঁধ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায়। অবশিষ্ট খালগুলোর মধ্যে কয়েকটির ওপর বক্স কালভার্ট তৈরি করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে এবং বাকিগুলো দখল হয়ে সেগুলোর আর কোনো অস্তিত্ব নেই।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ওয়াসার ২৬টি খালের মধ্যে ১৫টি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এই ১৫টি খালে পানিপ্রবাহ সচল না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। পানিপ্রবাহ না থাকায় কোনো কোনো খালের পার দখল হয়েছে। দখল হয়ে যাওয়া রাজধানীর বাইশটেকি, বেগুনবাড়ী এবং সাংবাদিক কলোনি, বাউনিয়া, ইব্রাহিমপুর, কসাইবাড়ি, আব্দুল্লাহপুর, শাহজাদপুর, মহাখালী, রূপনগর, রামচন্দ্রপুর, সুতিভোলা খাল উদ্ধারে ওয়াসার পক্ষ থেকে জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেই। বেগুনবাড়ী, সাংবাদিক কলোনি ও বাইশটেকি খাল দখল করে পাকা ভবন তৈরি করা হলেও তা উদ্ধারে কোনো তৎপরতা নেই ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের।
একসময় ঢাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মূলে ছিল শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা খাল। যেগুলো নগরীর চারপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এই খালগুলো দিয়ে শহরের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করা যেত। খালের সঙ্গে নদীর যে যোগাযোগ ছিল সেটি আজ বিচ্ছিন্ন। খালের পানি এখন আর নদীতে গড়ায় না। খালগুলো হারানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জলাবদ্ধতা। খালগুলো ভরাট করে ভবন, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও ড্রেন বানানো হয়েছে। মানুষের দায়িত্বহীনতাও খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
আবর্জনা ফেলার কারণেও ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে গেছে অনেক খাল। মূলত স্বাধীনতার পর নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ঢাকা শহরের পরিধি ও জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। নগরীর খালগুলো দখল ও ভরাট হওয়ায় ঢাকা শহরে এখন সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ঢাকার এই ২৬টি খাল এখনো সচল করা সম্ভব বলে মনে করে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। তারা ঢাকার ২৬টি খাল দখলমুক্ত করে ঢাকার চার নদীর সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে অনেক আগেই। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালগুলোর প্রবাহ ফিরিয়ে নদীর সঙ্গে যুক্ত করলে রাজধানীর প্রায় অর্ধেক এলাকার জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
আমরা জানি, ঢাকার খালগুলো শুধু মহানগরীর সৌন্দর্যই ছিল না, অতিরিক্ত পানি নেমে যাওয়ার জন্য খালগুলো ছিলো ঢাকার প্রাণ। বক্স কালভার্ট নির্মাণের চিন্তার পর খাল দখল করে, অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে অনেক খাল মেরে ফেলা হয়েছে। অতীতে অনেক সময় খাল উদ্ধারের চেষ্টা হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযানের পর আবার দখল হয়ে গেছে অনেক খাল। খালগুলো দখলমুক্ত করে চলমান করতে পেলে জলাবদ্ধতা কমবে বলেই আমরা আশাবাদি।


