বঙ্গবন্ধু হত্যার জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন সময়ের দাবি

বঙ্গবন্ধু হত্যার জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন সময়ের দাবি

বঙ্গবন্ধু হত্যার জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন সময়ের দাবি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে বলে জাতিকে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে হবে না। যারা এই হত্যাকাণ্ডের পরিবেশ তৈরি করেছে, যারা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করেছে, খুনীদের ছত্রছায়া দিয়েছে, সে বিষয়ে একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে তাদের মুখোশ এখন জাতির সামনে উন্মোচন করা সময়ের দাবি।

সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে একটি নেতিবাচক পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। ব্যাংকলুট, হত্যা, ধর্ষণসহ অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরী করে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার দেশি বিদেশী চক্রান্ত চলছিল। বিশ্বকে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছিল যে, বঙ্গবন্ধু দেশ চালাতে পরছেন না। আমেরিকায়, ভারতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পর জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। জাতীয়ভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের স্বরূপ জাতির সামনে উন্মোচন করে দিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদেরও অধিকার রয়েছে সপরিবারে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সামনে-পিছনের সব ঘটনা জানার।

আজ জাতির প্রশ্ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক নতুন প্রজন্মের প্রশ্ন, ১৫ আগস্টের শোবাবহ ঘটনা কেন সৃষ্টি হয়েছিল? বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হলো তখন রাষ্ট্রর সকল দায়িত্বশীল ব্যাক্তিরা চুপ ছিল। কেন চুপ ছিল? তারা তো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তারা চুপ ছিলেন, কারণ দেশের প্রতি, সংবিধানের প্রতি তাদের আনুগত্য ছিল না। ১৯৭৫ সালের পরে কারা ঘাতকদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিল, তাদের তখনকার রাজনীতিটা কি ছিল, তা জাতিকে জানাতে হবে। সেইসাথে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর সকল হত্যাকারীদের, তাদের সহযোগীদের, সকল চক্রান্তকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যারা বেনিফিসিয়ারি হয়েছিল, রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসেছিল তাদের বিষয়েও জাতীয় তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করতে হবে। মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিষয়েও যথাযথ তদন্ত করে জাতিকে প্রকৃত সত্য জানাতে হবে যে, ঘাতকদের ষড়যন্ত্রে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে তার কি ভূমিকা ছিল। আমাদের এখন বিবেচনায় রাখতে হবে, ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত এখনও থেমে নেই। সেই চক্রান্ত এখনও চলছে। শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা তারই ধারাবাহিকতা। যে হামলায় বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী শাহাদাত বরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অশুভ শক্তির চক্রান্তের কারণে এখনও বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে জাতিকে, রাষ্ট্রকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই, যার হাত ধরে বাংলাদেশের জন্ম সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন দেশে এদেশীয় খুনিদের হাতেই জীবন দিতে হলো। চার দশক পরও মীমাংসিত হলো না, জাতির জনককে রক্ষা করতে না পারার দায় আসলে কার। সেনাবাহিনী, রক্ষীবাহিনী, গোয়েন্দা নাকি রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতা ছিল তা এখনো সুস্পষ্ট নয়। নাকি আন্তর্জাতিক কোনো চক্রান্তের দোসর হয়েছিল এখানকার কিছু সুবিধাভোগী, সেটাও ইতিহাস পরিষ্কার করতে পারেনি। খুনিরা যে বেশ দীর্ঘ সময় ধরেই তাদের পরিকল্পনা করে তৎকালীন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছে, এটা পরিষ্কার। কিন্তু শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী ছিল, বিপথগামীদের কন্ট্রোল করতে না পারার দায় সত্যিকার অর্থে কার তা নিয়েও পাওয়া গেছে শুধু পরস্পরকে দায়ী করা বক্তব্য।

ক্ষতি যা হওয়ার হয়েছে জাতির, স্বাধীন বাংলাদেশ হারিয়েছে তার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানকে। সেই সাথে দেশ থেকে হারিয়েছে চলমান সমাজ প্রগতির ধারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *