২৪শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২২শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

রাশিয়ার হাতে আছে কিলিং লিস্ট : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইউক্রেনে আক্রমণ শুরুর পর নির্যাতন, জোরপূর্বক গুম এবং বিস্তৃত মানবিক দুর্ভোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছে রাশিয়া। এমনকি কাদের হত্যা করা হবে সেই তালিকাও তৈরি করেছে তারা। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান মিশেল ব্যাচেলেটের কাছে একটি চিঠিতে জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস গ্রিনফিল্ড এমন দাবি করেছেন। বিবিসি।

রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার কিলিং লিস্টে রয়েছে ইউক্রেনে নির্বাসিত রাশিয়ান এবং বেলারুশিয়ান ভিন্নমতাবলম্বী, সাংবাদিক এবং দুর্নীতিবিরোধী কর্মীরা। এছাড়া ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং এলজিবিটি অন্তর্ভুক্ত দুর্বল জনগোষ্ঠীকেও তারা টার্গেট করেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে, রাশিয়ান বাহিনী চিহ্নিত ইউক্রেনীয়দের হত্যার তালিকা (কিলিং লিস্ট) তৈরি করছে। ইউক্রেন দখলের পর তাদেরকে হত্যা কিংবা সামরিক ক্যাম্পে পাঠানো হবে।

রুশ হামলা আসন্ন নয়: ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলেক্সি রেজনিকভ বলেছেন, এই সপ্তাহে ইউক্রেনে রাশিয়ান আগ্রাসন শুরু হবে না। তার এই বক্তব্য পশ্চিমা দাবি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে নাকচ করে দেয়। মন্ত্রী বলছেন, আগামীকাল বা পরশু আক্রমণের সম্ভাবনা নেই, কারণ সীমান্তের কাছে কোনও রাশিয়ান ‘স্ট্রাইক গ্রুপ’ গঠন করা হয়নি।

ইউক্রেনের আইসিটিভি নেটওয়ার্ককে মন্ত্রী বলেন, সাধারণভাবে একটি স্ট্রাইক গ্রুপকে মোতায়েন করতে সর্বনিম্ন সপ্তাহ খানেক সময় লাগতে পারে। এমনকি অর্ধমাস কিংবা এক মাস পর্যন্তও লেগে যেতে পারে। অতএব ক্রেমলিনের নেতাদের মনে কোন পরিকল্পনা কাজ করছে, তার ওপর নির্ভর করছে হামলা শুরুর বিষয়টি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলছেন, আজ অবধি আমাদের গোয়েন্দারা তাদের পর্যবেক্ষণে কোনো আক্রমণকারী বাহিনী ইউনিট পায়নি। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, তারা যখন ইচ্ছা তখন বাহিনী প্রস্তুত করতে পারবে না। সুতরাং ঝুঁকি এখনও রয়েছে।

রেজনিকভ বলেন, রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করা। মস্কোর বাহিনী একটি আক্রমণকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য ইউক্রেনীয় সেনাদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে, যাতে আক্রমণ শুরু করা যায়।

যুদ্ধ এড়াতে আলোচনা জরুরি: রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ফ্রান্সের পক্ষ থেকে এই আলোচনার প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং প্রস্তাবটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে।

হোয়াইট হাউস বলেছে, রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করবে না- এমন নিশ্চয়তা পেলে বৈঠকে বসা যাবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান জোসেপ বোরেল সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠক যে ফরম্যাটেই হোক না কেন, টেবিলে বসে কথা বলতে হবে এবং যুদ্ধ এড়াতে চেষ্টা করা খুবই জরুরি। কূটনৈতিক পন্থাই সংকট সমাধানের একমাত্র উপায়।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com