রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তির মূলকপি চায় দুদক

রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তির মূলকপি চায় দুদক

রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তির মূলকপি চায় দুদক

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রিজেন্ট হাসপাতালের সব তথ্য চাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাচিকিৎসা ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সকল তথ্য-উপাত্তের মূলকপি চেয়েছে । গত তিনদিন আগে দুদকের চাহিদা মোতাবেক সকল তথ্য-উপাত্তের কপি দুদকে পাঠানো হলেও তাতে সন্তুুষ্ট হতে পারেনি দুদকের অনুসন্ধানী দল।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন স্বাস্থ্য ভবনে এসে অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দুদকের উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধানী দল।

তারা রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে করোনা চিকিৎসাসেবা প্রদান সম্পর্কিত চুক্তিপত্র ও আর্থিক লেনদেনসহ সকল প্রকার লেনদেনের মূলকপি সরবরাহের অনুরোধ জানান এবং অনুসন্ধান শেষে সকল তথ্য-উপাত্ত ফেরত পাঠাবেন বলে জানান।

তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মহাপরিচালক সকল তথ্যের মূলকপি দ্রুত দুদকে পাঠাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর ও দুদকের দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট প্রদান, অর্থ আত্মসাৎসহ প্রতারণার অভিযোগে গত বুধবার রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে আছেন।

এর আগে গত ৬ জুলাই উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযানে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি করোনা রোগীর নমুনা পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, হাসপাতাল দুটি ছয় বছরেরও বেশি সময় লাইসেন্স নবায়ন না করেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। নানা অভিযোগে উত্তরা ও মিরপুরের দুটি শাখাই সিলগালা করে দেয়া হয়।

র্যাবের অভিযানে রিজেন্ট হাসপাতালের এ অপকর্মের কাহিনী বেরিয়ে এলে সারাদেশে নিন্দার ঝড় ওঠে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো (ভাড়াবাড়িতে হাসপাতাল), ডাক্তার-নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল, আইসিইউসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকার পরও কেন করোনা হাসপাতাল ঘোষণা করা হলো, চুক্তির আগে হাসপাতালটিতে অধিদফতরের কোন কর্মকর্তা পরিদর্শন করেছিলেন, কী পরিদর্শন রিপোর্ট দেয়া হয়েছিল, চুক্তিতে কী ছিল, চুক্তির পর থেকে হাসপাতাল দুটিতে কত সংখ্যক করোনা রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হযেছে, চিকিৎসাবাবদ কত টাকা বিল দেয়া হয়েছে ইত্যাদি নানা প্রশ্ন ওঠে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে চুক্তির ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। অধিদফতরের এহেন বক্তব্যের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে’ তথ্যের ব্যাখ্যা-প্রদানসহ সকল তথ্য-উপাত্ত চেয়ে পাঠানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতর তাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য-উপাত্ত জমা দেয়। রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নানা অপকর্মের সন্ধানে মাঠে নামে দুদক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *