২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

রিটের পর পরীক্ষা দিলো সেই ৬ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা

পাথেয় রিপোর্ট : যে ৬ মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা তাবলীগদ্বন্দ্বে আটকে গিয়েছিল আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ অধীনে কওমি মাদরাসা চলতি শিক্ষাবর্ষের দাওরায়ে হাদীস (তাকমিল) পরীক্ষা তারা দিতে পেরেছ। মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারী মাদরাসা সাভারের মারকাজুল উলুম আশ শরিয়ার মুহতামিম মাওলানা জিয়া বিন কাসেম এ তথ্য পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন।

জিয়া বিন কাসেম বলেন, পরীক্ষা দিতে পারলেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের মাদরাসার নাম ম্যানশন করতে পারেনি। মাদরাসার নামে তারা পরীক্ষা দিতে পারেনি। তবে আল্লাহর মেহেরবানীতে আলহামদুলিল্লাহ যে ৬ মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আটকে দেয়া হয়েছিল তারা পরীক্ষা দিতে পেরেছে।

সম্মিলিত কওমি মাদরাসা শিক্ষা সংস্থা ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ অধীনে কওমি মাদরাসা চলতি শিক্ষাবর্ষের দাওরায়ে হাদীস (তাকমিল) পরীক্ষা ৮ এপ্রিল ২০১৯ সোমবার শুরু হয়েছে। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এ চলবে পরীক্ষা। পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

৬ কওমি মাদরাসাভিত্তিক সর্বোচ্চ শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর কেন্দ্রীয় এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ মার্চ (রোববার) ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের তাবলিগের মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর এতায়াতের কারণে সাদপন্থী মাদরাসাগুলোর কেন্দ্রীয় পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।

আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এমন সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামের লালখান বাজার মাদরাসাসহ দেশের কয়েকটি মাদরাসার প্রায় ১৭৭ জন দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া ও হাইয়াতুল উলইয়া থেকে শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ করার ব্যাপারে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন বঞ্চিত মাদরাসাগুলো।

জিয়া বিন কাসেম জানান, আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ মাদরাসায় পৌঁছে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পেরেছে।

৬টি কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবি মোহাম্মদ আব্দুল কদ্দুস বাদল এর এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ.আর.এম. নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে.এম. কামরুল কাদেরের দ্বৈত বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রিটের শুনানি শেষে মাদরাসাগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারবে বলে নির্দেশ দেন।
রোববারের মধ্যেই মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারী মাদরাসায় পড়ার কারণে পরীক্ষা অনিশ্চিত এমন শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র প্রদান করে পরীক্ষা নিতে নির্দেশ দেন আদালত।

রিট আবেদনকারী মাদরাসাগুলো হলো- রাজধানীর বারিধারার আল মাদরাসাতুল মঈনুল ইসলাম, সাভারের মারকাজুল উলূম আশ শরীয়াহ, নন্দিপাড়ার মাদরাসাতুস সুফফা আল ইসলামিয়া, চাঁদপুরের জামিয়া মাদানিয়া আশরাফুল উলুম, কিশোরগঞ্জ গাইটাইলের মাদরাসায়ে রাহমানিয়া, ময়মনসিংহ ভালুকার জামিয়া ইসলামিয়া রাহে জান্নাত মহিলা মাদরাসা।

অবশ্য রিটের পর যোগাযোগ করা হলে আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’র কো চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলী বলেন, আমরা কোনও শিক্ষার্থীর পরীক্ষা স্থগিত করিনি বরং যেসব সাদপন্থী মাদরাসায় হাইয়ার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল, সে সব কেন্দ্র স্থগিত করি।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com