১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

রুখতে হবে রোহিঙ্গাদের পালানো

মাসউদুল কাদির : আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে কে বা, আমি বাঁধি তার ঘর— কবি জসীমউদদীন আহমদ চমৎকার বলেছেন। অনেক ক্ষয়ক্ষতির পরও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মহল এ বিষয়টি দিন দিন আরও সঙ্কটের সৃষ্টি করছে বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে। দিন যাচ্ছে আর জটিলতর হচ্ছে এদের চলাফেরা, নিরাপত্তা এবং খাবারদাবার। এরা পালাতে অভ্যস্ত। একটা এলাকায় থাকতে চায় না।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আশ্রয়ে আশাবাদি ছিল, বিশ^মহলের চাপে মিয়ানমার নতি শিকার করবে। ফিরিয়ে নেবে রোহিঙ্গাদের। আদতে তা হচ্ছে কই? যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড অ্যানালিটিকার বিশ্লেষণ থেকেও তেমনই আভাস পাওয়া যায়। বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে কৌশলগত পরামর্শদাতা এই প্রতিষ্ঠানের মতে, প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্য বিশ্বসম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ কী করছে, তার ওপরও নজরদারি বাড়িয়েছে। যেনতেন উদ্যোগ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখোমুখি করতে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গিবাদী কর্মকান্ডে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাও বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

কঠিন প্রহরা সত্ত্বেও রাখা যাচ্ছে না রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে। ক্রমেই তারা দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। বাইরে গিয়ে এরা ছোট ছোট গার্মেন্ট কারখানা বা অন্যান্য কারখানায় কম বেতনে চাকরি করছে। নিজস্ব স্বার্থেই মালিকরা তাদের পরিচয় লুকাতে সহযোগিতা করছেন। কম বেতন হওয়ায় সে সুযোগটা কারখানা মালিকরা নিচ্ছেন।

নিবন্ধিত ১১ লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে এখন পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯ লাখ ১৫ হাজার। ধারণা করা হচ্ছে, বাকি দুই লাখের বেশি রোহিঙ্গা শিবির ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যেসব রোহিঙ্গা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল, তারাও এখন বাংলাদেশে চলে আসছে। এরই মধ্যে এক হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে বলে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়। এ অবস্থায় ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বোঝা বাংলাদেশ কত দিন বয়ে যেতে পারবে? তাদের কি স্থায়ীভাবেই বাংলাদেশে রেখে দিতে হবে? এমন প্রশ্ন আরও বড় করে এখন দেখা দিয়েছে।

ক্রমে অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে ঘিঞ্জি পরিবেশে রোহিঙ্গারা। গণমাধ্যম এমন কিছু কারণই তাদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কারণ উল্লেখ করছে। এ ছাড়া নিজেদের মধ্যে হানাহানি, খুনাখুনির ঘটনা ঘটছে। অনেক রোহিঙ্গা স্থানীয় বিভিন্ন অপরাধচক্রের সঙ্গেও জড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও মারাত্মক অবনতি হচ্ছে। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আরও সতর্ক সযতœ হতে হবে। পালিয়ে যাওয়া রুখতে হবে। এরকম চলতে থাকলে আন্তর্জাতি মাফিয়াদের সঙ্গেও এরা জড়িয়ে পড়তে পারে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে দ্রুত বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেবে বলেই আমরা প্রত্যাশি।

লেখক : ভাইস প্রেসিডেন্ট,আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com