৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

রেডিও শুনে শুনে কোরআনের হাফেজ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ফিলিস্তিনের মরুভূমিতে বাস করা একজন রেডিওতে পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াত শুনে হেফজ সম্পন্ন করেছেন। আলহাজ সালামাহ আলি নামে একজন রাখাল কয়েক বছর যাবত ছাগল চড়ানোর সময় রেডিওতে কোরআন শুনতেন। নিয়মিত শুনে শুনে তিনি পবিত্র কোরআনের হেফজ সম্পন্ন করেন।

আলহাজ সালামাহ বলেন, ‘১৯৮৩ সালে পবিত্র কোরআন হেফজ শুরু করি। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় চার বছর পর হেফজ সমাপ্ত হয়। কারণ ওই সময় আমাদের এলাকায় কোনো হাফেজ কিংবা হেফজখানাও ছিল না। এলাকার করুণ পরিবেশ আগের মতোই বহাল আছে।’

সালাহ জানান, ‘হেফজের সময় পেছনের পাঠ পুনরায় পড়া খুবই জরুরি। নতুবা পঠিত সবকিছু ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে রেডিওতে কোরআন শোনার ব্যবস্থা আমাকে অনেক বেশি সহায়তা করে।’

‘রেডিওতে শায়খ কখন কোরআন তেলাওয়াতের সময় সম্পর্কে আমি জানতাম। তখন আমিও তাঁদের সঙ্গে কোরআন পুনরাবৃত্তি করতাম। এভাবে তা শুনতে শুনতে আমার বিশুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত শিখি।’

‘নিজের ছাগল চড়ানোর সময় আমি রেডিওতে কোরআন শুনতাম। এভাবে আমি তাজবিদের সব রীতি-নীতি আয়ত্ত করি। ফলে অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও সুন্দরভাবে কোরআন পড়তে পারি।’

‘অধ্যয়নের প্রতি নিজের প্রবল আগ্রহও কোরআন হেফজের ক্ষেত্রে আমাকে সহায়তা করে। আমার হাতে আসা যেকোনো বই পড়ে শেষ করি। ছাগল চড়াতে মরুভূমিতে বাস করলেও কোরআন তেলাওয়াত ও নানা বই পাঠের মাধ্যমে ভিন্ন এক জগতে বসবাস করি।’

‘মরু অঞ্চলে সীমিত জ্ঞানের অধিকারী মানুষের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়। তাই আমি মনে করি, বইপাঠ সবার জন্য জরুরি। গভীর অধ্যয়ন ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। তাই সবাইকে কোরআন পাঠের অনুরোধ করব। কোরআন না পড়ে অন্য কিছু পাঠে মনোযোগী হওয়া নিজেকে দুর্বল করে রাখবে।’

‘আমি মরুভূমিতে বাস করি, যেখানে কোনো হেফজখানা বা হাফেজ বলতে কিছুই নেই। তদুপরি কোরআন হেফজের ক্ষেত্রে ‘নিঃসঙ্গতা ও অফুরন্ত অবসর সময়’ আমাকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে। সর্বোপরি মহান আল্লাহর সার্বিক সহায়তা তো আছেই। আমার এখন ষাট বছর। কিন্তু আমি এখনও পবিত্র কোরআন বার বার পড়তে থাকি।’

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com