২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

রেলে ছিনতাই ও ঢিল ছোড়া বন্ধে ব্যবস্থা নিন

নিরাপত্তা বাড়ান

রেলে ছিনতাই ও ঢিল ছোড়া বন্ধে ব্যবস্থা নিন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: ভ্রমণের ক্ষেত্রে এখনও রেল অত্যন্ত অভিজাত একটি বাহন ব্যবস্থা। একে তুচ্ছ করে দেখেনি বিশ্ব। সুতরাং বাংলাদেশে নিরাপত্তার বলয়ের ভেতর আনা সম্ভব হয়নি রেল সেক্টরকে। নিরাপত্তা বাড়ানোর বিকল্প নেই। রেলে মাদকের ছড়াছড়ির ভেতর দিয়ে ছিনতাইও যাত্রীদের মাথা ব্যথার কারণ। তার উপর বাইরে থেকে ঢিল ছোড়ার প্রবণতাও আগের তুলনায় কমেনি। দিন দিন উন্নত হচ্ছে বিশ্ব। কিন্তু বাংলাদেশের রেল ব্যবস্থাপনায় নতুন কোনো সংযোজন নেই বললেই চলে।

বর্তমান সরকার রেলওয়েকে আধুনিক করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে নতুন কোচ। কিন্তু যাত্রীদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বিভিন্ন স্টেশনে, এমনকি চলন্ত ট্রেনেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। বুধবার রাতে শিশুসন্তানকে নিয়ে ভৈরব স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন এক নারী। সন্তান নিয়ে ভিড় ঠেলে তখনো ওই নারী কামরার ভেতরে পৌঁছতে পারেননি। তাঁর হাতে ছিল একটি ব্যাগ। প্ল্যাটফর্ম থেকে ১০০ গজ সামনে যেতেই ব্যাগটি ধরে টান দেয় এক ছিনতাইকারী। তাতে চলন্ত ট্রেন থেকে ওই নারী ছিটকে লাইনের পাশে পড়ে যান। মা ছিটকে পড়লেও শিশুটি ছিল ট্রেনের ভেতরেই। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয় লোকজন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এই ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে পুলিশ রাতেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করে। আটককৃতরা স্টেশন এলাকায় নানা অপরাধ কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে বেশ কয়েকটি স্পটে চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট রেলপথের আখাউড়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত এলাকায় এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা নিত্যদিনের। এসব রেলপথের অন্তত ৮-১০টি স্থানে ট্রেনে নিয়মিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া ট্রেনে ঢিল ছোড়ার ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। মাঝেমধ্যে কিছু ছিনতাইকারী ধরা পড়লেও ছিনতাই পরিস্থিতির লাগাম টানতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, একটি চক্র এসব ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে নারীদের একটি চক্রও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছে। পুরুষ ছিনতাইকারীরা ট্রেনের ছাদ থেকে বিশেষ কায়দায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। ছিনতাইকারীদের মূল টার্গেট থাকে মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও টাকা। পাথর ছোড়ার ঘটনায় সচেতনতা সৃষ্টি করা হলেও সেটা থামছে না। চলন্ত ট্রেনে ঢিলের আঘাতে গত কয়েক বছরে অনেক যাত্রী আহত, এমনকি বেশ কয়েকজন নিহতও হয়েছেন। দুষ্কৃতকারীরা এভাবে নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের মাধ্যমটিকে অনিরাপদ করে তুলছেন। এতে যেমন রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি বিপন্ন হচ্ছে মানুষের জীবন।

সচেতনতা সৃষ্টির জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও চলন্ত ট্রেনে বাইরে থেকে পাথর ছোডার ঘটনা বন্ধ হয়নি। বন্ধ হয়নি ছিনতাইয়ের ঘটনাও। আমরা আশা করি, রেলভ্রমণ নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com