ওয়ার্ল্ড ডেস্ক ● দেশের কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করেছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। থেমে যাওয়া শান্তি-প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করতে গত বুধবার পাঁচ দিনের এই আলোচনা শুরু হয়। তবে রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনা অভিযানে দমন-পীড়নের শিকার রোহিঙ্গা মুসলিমরা এই আলোচনায় নেই। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মিয়ানমারের সাবেক সামরিক সরকারের সময় শান্তি-প্রক্রিয়ায় যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো আলোচনায় অংশ নিয়েছিল, এবারও তাদেরই সঙ্গে বসেছে সরকার। নতুন কোনো গোষ্ঠী এ আলোচনায় নেই। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল ভোটে জয় পায়।
২০১৬ সালের শুরুর দিকে সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ করে দলটি। জাতিসংঘের হিসাবমতে, সু চির দল ক্ষমতায় আসার পর বেশ কয়েকটি সংঘাতে ১ লাখ ৬০ হাজারের মতো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশের একটি সীমান্তচৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে নতুন করে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু হয়। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের ভাষ্যানুযায়ী, সরকারি বাহিনীর ব্যাপক হারে হত্যা, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগের কারণে গত বছরের শেষ নাগাদ ৪৩ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
আর ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন আশ্রয় শিবির ও অস্থায়ী শিবিরে ৭৪ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ওই সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে সু চি উপস্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিদের প্রতি জাতীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে (এনসিএ) যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।


