১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে উপযোগী পরিবেশের প্রত্যাশা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশ কেবল সমগ্র পৃথিবী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে কক্সবাজারে অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিয়ে। চলমান এই সংকট দূর করতে সবাই আগ্রহী। ভারতও বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা গভীরভাবে লক্ষ্য করছি, চলমান রোহিঙ্গা সংকট শুধু মিয়ানমার নয়, বাংলাদেশের জন্যও এক কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। ঘিঞ্জি পরিবেশে দিনের পর দিন কাটানোর কারণে রোহিঙ্গারাও ক্রমে অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে।

রোহিঙ্গারাও প্রায়শ নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে লিপ্ত হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় আগামী ১৫ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ জানা গেছে, সেদিন দুই হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গার ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কেউ কেউ দাবি করেছেন, মিয়ানমারে এখনো ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। তাই তাঁরা প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার কথাও বলছেন। কিন্তু কত দিন? এরই মধ্যে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশকেই দায়ী করতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ কেন সেই দায় নিতে যাবে? এ অবস্থায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।

বিশ্ব নেতৃবৃন্দ মিয়ানমারে যে উপযুক্ত পরিবেশ সন্ধানে তৎপরতাও সন্দেহবাতিকতা বাড়াচ্ছে। মনে হচ্ছে কলাকৌশলে বাংলাদেশেই এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে রেখে দেয়ার একটা তৎপরতা রয়েছে। এটা যদি হয় তা হবে ভয়াবহ।

জানা যায়, রোহিঙ্গা নেতারাও অনেকটাই আশ্বস্ত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে প্রথম দলটি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পরই জানা যাবে, সেখানকার পরিস্থিতি তাদের বসবাসের কতটা অনুকূল হয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বেশ কিছু শর্তের উল্লেখ করেছে।

ইউএনএইচসিআরের আয়োজনে শরণার্থীবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য তিনটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হলো—১. মিয়ানমারে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক আইন, নীতিমালা ও প্রথাগুলো বাতিল করা এবং সংকটের কারণ খুঁজে সেগুলোর সমাধান করা; ২. নাগরিকত্ব ও সুরক্ষা প্রদানসহ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ৩. নৃশংসতা প্রতিরোধে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশের আলোকে জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই শর্তগুলো পূরণ করা খুবই জরুরি। কিন্তু সব শর্ত শতভাগ পূরণ ও সম্পূর্ণ উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করলে এ সমস্যার সমাধান ক্রমেই আরো কঠিনতর হয়ে পড়বে।

প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির পথ বের করতে হবে। আমরাও মনে করি, এ বিষয়ে আরও উদ্যোগী মনোভাব দেখাতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। এগিয়ে আসতে দায়িত্বশীল ভূমিকায়।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com