৮ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১১ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

রোহিঙ্গা সংকটের পাঁচ বছর

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মিয়ানমারের রাখাইনে রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের পর সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়া এবং প্রত্যাবাসনের ক্ষীণ সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, করোনাভাইরাস মহামারি এবং খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলার কঠিন সংগ্রামের সময়েও ১০ লাখেরও বেশি শরণার্থীদের ঠায় দিতে হচ্ছে বাংলাদেশের।

রোহিঙ্গা সংকটের সংক্ষিপ্ত সময়রেখা:
২৫ আগস্ট, ২০১৭- আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি মিয়ানমারের ২০টিরও বেশি সীমান্ত পুলিশ ফাঁড়িতে আক্রমণ করে, রাখাইন রাজ্যে সামরিক ক্র্যাকডাউন শুরু করে। নৃশংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নিতে শুরু করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা।

৩১ আগস্ট, ২০১৭- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ২৭ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭- জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এক চিঠিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

১১সেপ্টেম্বর, ২০১৭- জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনার মিয়ানমারের সামরিক অভিযানকে “জাতিগত নির্মূলের একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ” বলে অভিহিত করেন।

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭– বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুতুপালং শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭- মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি অধিকার লঙ্ঘনের অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন কিন্তু জাতিসংঘের তোলা জাতিগত নির্মূলের অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭- নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাখাইন রাজ্যে নিঃশর্ত সহিংসতা ও জাতিগত নিধন বন্ধ করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বানসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেন।

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়ায়।

৬ অক্টোবর, ২০১৭- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গা সংকটের অবসানের দাবিতে বিবৃতি দেয়।

১৮অক্টোবর, ২০১৭- চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বাংলাদেশ সফর করেন। সে সময়ে তিনি জানান, বেইজিং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে ঢাকাকে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

২৩ অক্টোবর, ২০১৭- বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। যেখানে বলা হয়, প্রক্রিয়াটি শুরু হওয়ার দুই বছরের মধ্যে শেষ হবে এবং মিয়ানমার প্রতিদিন ৩০০ জন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে।

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮- বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের কাছে ৮,০০০ রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করে। তালিকা থেকে মাত্র ৩৭৪ জনকে নিতে রাজি হয় মিয়ানমার।

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮- মিয়ানমার অন্তত ৫৫টি রোহিঙ্গা গ্রাম বুলডোজ করে, যেগুরো সহিংসতার সময় খালি করা হয়েছিল।

১২ মার্চ, ২০১৮- মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ঘাঁটি তৈরি করা শুরু করে, যেখানে একসময় রোহিঙ্গাদের বাড়ি এবং মসজিদ ছিল।

১১ এপ্রিল, ২০১৮- মায়ানমারের সাতজন সৈন্যকে গণহত্যার জন্য ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়।

২৯ এপ্রিল, ২০১৮- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি দল বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে।

২ জুলাই, ২০১৮- জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮- সু চি স্বীকার করেছেন যে, তার সরকার রাখাইনের পরিস্থিতি আরও ভালভাবে পরিচালনা করতে পারত।

১৫ নভেম্বর, ২০১৮- ক্যাম্পে বিক্ষোভের মধ্যে প্রথম রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টা স্থগিত।

২৭ জুলাই, ২০১৯- মিয়ানমারের উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধি দল কক্সবাজার শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে।

২২ আগস্ট, ২০১৯- রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসনের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

২৫ আগস্ট, ২০১৯– রোহিঙ্গা শরণার্থীরা কুতুপালং ক্যাম্পে বিশাল সমাবেশ করে। তারা পুনর্ব্যক্ত করে যে, মিয়ানমার নাগরিকত্বসহ তাদের পাঁচ দফা দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত তারা ফিরে যাবে না।

১১ নভেম্বর, ২০১৯– গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা দায়ের করেছে।

২৩ জানুয়ারি, ২০২০– আইসিজে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যেকোনো গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং তাদের সুরক্ষার জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্থায়ী ব্যবস্থা জারি করে।

২৫ মে, ২০২০- মিয়ানমার আইসিজে-তে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা মেনে চলার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। যদিও সে প্রতিবেদনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয় না।

১৮ নভেম্বর,২০২০- জাতিসংঘ একটি রেজুলেশন গ্রহণ করে, যেখানে রোহিঙ্গা সঙ্কটের জরুরি সমাধানের জন্য মিয়ানমারকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

৪ ডিসেম্বর, ২০২০- স্থানান্তরের প্রথম পর্যায়ে ১,৬৪২ জন রোহিঙ্গার একটি ব্যাচ ভাসানচরে আসে।

১৩ জুলাই, ২০২১- জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪৭তম অধিবেশনে “মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি” বিষয়ে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

৯ অক্টোবর, ২০২১- বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য ভাসানচরে জাতিসংঘের নিযুক্তির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।

২১ মে, ২০২২- জাতিসংঘের শরণার্থী হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি কক্সবাজার ও ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের চাহিদা নিয়ে আলোচনা করতে ঢাকায় আসেন।

২৩ জুন, ২০২২- বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন রুয়ান্ডায় কমনওয়েলথ পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রীদের বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য সমর্থন চান।

২২ জুলাই, ২০২২- আইসিজে গাম্বিয়ার করা মামলায় মিয়ানমারের প্রাথমিক আপত্তি প্রত্যাখ্যান করে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com