লাখো মোমবাতি জ্বালিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ

লাখো মোমবাতি জ্বালিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: নড়াইলে লাখো মোমবাতি জ্বালিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে। অন্ধকার থেকে মুক্ত করুক একুশের আলো’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে মৌলবাদ, কুশিক্ষা আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এবারের এ আয়োজন নড়াইলের ভাষা সৈনিক প্রয়াত রিজিয়া খাতুনের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শহরের কুরিরডোব মাঠে ‘একুশ আলো উদযাপন’ পর্ষদের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী। এ সময় বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার মোহা. মেহেদী হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা, একুশের আলো উদযাপন পর্ষদের সভাপতি নাট্যকার কচি খন্দকার, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু, একুশের আলোর সহ-সভাপতি আ্যাডভোকেট ওমর ফারুক, সাধারন সম্পাদক কচি খন্দকার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মলয় কুন্ড সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের পরেই তিন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক চার একর বিশিষ্ট মাঠজুড়ে মোমবাতি জ্বালানোর কাজটি করেন। তাদের হাত ধরে জ্বলে ওঠে লাখো মোমবাতি। সন্ধ্যায় নেমে আসা অন্ধকার দূর করে পুরো মাঠ মোমবাতির বর্ণিল আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। মোমবাতির আলোয় ফুটে ওঠে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রতিকৃতি,শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বিভিন্ন বর্ণমালা, আল্পনাসহ গ্রাম বাংলার নানা ঐহিত্যবাহী নকশা। দৃষ্টিনন্দন এ আয়োজন দেখতে নড়াইলবাসীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষরা আসেন।

উদ্ধোধনের আগে থেকেই শুরু হয় আলোচনা, গণসঙ্গীত, আবৃত্তি, কবিতা পাঠ ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনা। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের শিল্পীদের আয়োজনে এ পরিবেশনা চলে অনুষ্ঠানের শেষ পর্যন্ত।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নড়াইল শাখার সাধারণ সম্পাদক শরফুল আলম লিটু জানান, ভাষা শহীদদের স্মরণে নড়াইলে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন ১৯৯৭ সালে শুরু হয় নড়াইলের সুলতান মঞ্চ চত্বরে । তখন মাত্র ৮ হাজার মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হলেও এখন প্রতিবছর ১লাখ মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হয়। এ আয়োজন সফল করতে সাংস্কৃতিক কর্মী, সেচ্ছাসেবক ও শ্রমিক কাজ করে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *