পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : শবে বরাতের ইবাদত নিয়ে ভারতের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিস শাইখুল হাদীস মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী দলীলভিত্তিক আলোচনা করেছেন৷ তাঁর আলোচনার সারসংক্ষেপ পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের জন্য উল্লেখ করা হলো— হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ শবেবরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এ রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবে পরিচিত। এ রাতের চারটি সহীহ আমল রয়েছে—
১. এ রাতে আল্লাহ যতটুকু তাওফীক দেন সেই অনুযায়ী ঘরে একাকি ইবাদত করা, নফল নামাজ, তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল, যিকর, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা৷ কিন্তু বর্তমানে আমরা এই রাতকে আড্ডাবাজির রাত বানিয়ে নিয়েছি। এই রাতকে কেন্দ্র করে মসজিদে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা হওয়া, কবরস্থানে যাওয়া, খানা-পিনার ধুম-ধাম আয়োজন করা। এইসব কিছুই ভুল কাজ, শরিয়তে এইগুলোর কোনো বাস্তবতা নেই৷
এই রাতে বেশী বেশী নফল নামায পড়া উচিৎ, তবে সারা রাত পড়ার প্রয়োজন নেই। যতটুকু আল্লাহ তাওফীক দেন ততটুকু একাকি ঘরে করা, আনুষ্ঠানিকভাবে জমায়েত না হওয়া৷
২. পরের দিন অর্থাৎ শাবান মাসের ১৫ তারিখ রোজা রাখা, এই রোযা মুস্তাহাব৷
৩. এ রাতে নিজের জন্য, নিজের মরহুম আত্মীয়দের জন্য, এবং পুরো উম্মতে মুসলিমার মাগফিরাতের জন্য দুআ করা। তবে এর জন্য কবরস্থানে যাওয়া জরুরী নয়৷ এই রাতে পেয়ারে নবীজী সা. অবশ্যই গোরস্থানে গিয়েছেন, কিন্তু চুপে চুপে গিয়েছেন; শুধু হযরত আয়েশা রা. হঠাৎ একবার জেনে গিয়েছিলেন৷
এছাড়াও, কবরস্থানে যাওয়ার ব্যপারে হাদীসে কোনো হুকুমও করা হয়নি। সুতরাং আমাদের দেশে কবরস্থানে যাওয়ার নামে যে তামাশা করা হয় এই সবগুলো ভুল কাজ, বর্জন করা জরুরী৷
৪. যদি কোনো দুই ব্যক্তির মাঝে ঝগড়া, হিংসা-বিদ্ধেষ থাকে তাহলে এই রাতে পরস্পরে মিলে যাওয়া। যদি মিলে না যায় তাহলে আল্লাহর ক্ষমা পাবে না৷
এই রাতে এই চার কাজ, যয়ীফ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, আর যয়ীফ হাদীস তখন গ্রহণ করা হবে না, যখন সামনে সহীহ হাদীস থাকবে, সহীহ হাদীসের মুকাবেলায় যয়ীফ হাদীস মানা যায় না৷ কিন্তু যদি কোনো মাসআলায় কেবল যয়ীফ হাদীসই থাকে, এর বিপরীতে সহীহ হাদীস না থাকে, তাহলে যয়ীফ হাদীসকে গ্রহণ করা হবে। আর এমন মাসআলা এক দুইটা নয়, বরং অনেক আছে! যে মাসআলা গুলোতে কেবল যয়ীফ হাদীসেই আছে এবং যয়ীফ হাদীস দ্বারাই প্রমাণিত৷
যেমন : সালাতুত-তাসবীহ সম্পর্কে ১১ টি রেওয়াত রয়েছে, আর সব গুলো রেওয়াতই যয়ীফ, কিন্তু সালাফগণের যামানা থেকেই সালাতুত তাসবীহর আমল চলে আসছে৷ ইমাম বুখারী রহ. বলেন, সালাতুত-তাসবীহর হাদীসগুলো আমার কাছে যয়ীফ হলেও আমি এর উপর আমল করি, কেননা তা ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকসহ সালাফ থেকে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে৷
হ্যাঁ, তবে যয়ীফ হাদীস দ্বারা কখনও ওয়াজীব, সুন্নাত পর্যায়ের আমল প্রমাণিত হবে না, বরং মুস্তাহাব পর্যায়ের হুকুম প্রমাণিত হবে। সুতরাং সালাতুত তাসবীহ পড়াও মুস্তাহাব, ঠিক শাবান মাসের পনের তারিখের দিবাগত রাতের আমল সম্পর্কে যে রেওয়াত পাওয়া যায় ঐ গুলোও যয়ীফ তাই এই হাদীসগুলো দ্বারা মুস্তাহাব পর্যায়ের আমল প্রমাণিত হবে৷ সুতরাং হাদীসে বর্ণিত চারটি কাজই মুস্তাহাব হবে৷


