শিশু নির্যাতন বন্ধে সচেতনতা জরুরি

শিশু নির্যাতন বন্ধে সচেতনতা জরুরি

শিশু নির্যাতন বন্ধে সচেতনতা জরুরি

আব্দুল লতিফ বকসী : শিশুরা সবার আদরের। বড়দের কাছে ছোটরা শিখবে। আমাদের বাঙালি কালচার তেমনি। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এজন্য নিরাপদ বেড়ে উঠা শিশুর অধিকার। একটি শিশুর জন্মের পর নিরাপদে স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে উঠবে। অনেক ক্ষেত্রে তা হয় না। সে কারণেই প্রশ্ন এসেছে নিরাপদে বেড়ে ওঠার। এখানে শিশুর কিছুই করার নেই। শিশুদের নিরাপদ বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ ও অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের, আমাদের সমাজের। অপ্রত্যাশিতভাবে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে শিশু, অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। একসময় অপুষ্টি, অশিক্ষা, অবহেলায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি অনেকে। মানুষ সচেতন হয়েছে।

সরকারের সহায়তায় শিক্ষার সুযোগ সুষ্টি হয়েছে, মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমেছে। স্কুলে ঝড়ে পরা শিশুর সংখ্যা এখন অনেক কম। শিশুরা সুশিক্ষা গ্রহণ করে যোগ্য জাতি গঠনে ভুমিকা রাখতে পারে। যতক্ষণ নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশে একটি শিশু নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে না পারবে, ততক্ষণ উন্নত জাতি গঠনে তার অবদান রাখার সুযোগ নেই।

শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার হ্রাসে বাংলাদেশের অর্জন অনেক। এক্ষেত্রে পাশ্ববর্তী দেশ থেকে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে প্রতি হাজারে যেখানে শিশু মারা যেতো ১৪৬ জন, ২০০৯ সালে তা কমে এসেছে প্রতি হাজারে ৫০ জনে। শিশু মৃত্যু হার ও প্রবণতা ২০১৪ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গত ১২ বছরে শিশুমৃত্যুর হার কমেছে ৭২ শতাংশ। জাতিসংঘ শিশু তহবিল পরিচালিত ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালের তুলনায় বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সের শিশু মৃত্যুহার ৫৩ শতাংশ কমেছে। প্রতি হাজারে শিশু মৃত্যুর হার এখন ৩৮ জন।

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবীদ অমর্ত্য সেন বাংলাদেশ সফর করে বলেছেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নারীর ক্ষমতায়ন, গড় আয়ু বৃদ্ধি, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারত থেকেও এগিয়ে। সরকারের পাশাপাশি আমরা সবাই সচেতন হলে এ অবস্থার আরো দ্রুত উন্নতি করা সম্ভব। উন্নয়নে পথ ধর আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নতদেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবো।

নির্যাতন শিশুদের অগ্রযাত্রায় বড় বাধা। শিশুদের কোমল মনে ভয়ের সৃষ্টি করে, স্বাভাবিক মেধা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। কোন কাজটি ঠিক, কোনটি ঠিক নয়, তা শিশুরা বুঝতে পারে না। আমাদের উচিৎ শিশুদের উৎসাহ দেয়া। উৎসাহ পেলে শিশুরা যেকোনো কাজে আগ্রহ বাড়ে।

লেখক : শিশু গবেষক ও কলামিস্ট

(চলবে)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *