সন্তান রেখেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ৪৬৩ বাবা-মা

সন্তান রেখেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ৪৬৩ বাবা-মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সন্তানদের আটক রেখে সাড়ে চার শতাধিক অবৈধ অভিবাসী বাবা-মাকে দেশে ফিরতে বাধ্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় আটক করে এসব বাবা-মাকে তাদের সন্তানদের কাছ থেকে আলাদা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে কেন্দ্রীয় সরকার ও আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন-এসিএলইউ যৌথভাবে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

গত এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন ইস্যুতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে অভিবাসীদের আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করার পাশাপাশি তাদের শিশু সন্তানদের পরিবারবিছিন্ন করা হচ্ছিল। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, অভিভাকদের কাছ থেকে পৃথক করে দিলে শিশুদের দেখার জন্য মরিয়া ওই অভিভবাকরা প্রত্যাবাসিত হওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। পরিবার বিচ্ছিন্ন করে ফেলা প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে এসব শিশুকে আটক রেখেই অনেক বাবা-মাকে তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে জুন মাসে ওই নীতি থেকে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এরপর শিশুদের তাদের বাবা-মায়ের কাছে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশে ফেরত পাঠানো বাবা-মায়ের সন্তানদের নিয়ে এখন নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গত সোমবার আদালতে উপস্তাপিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৪৬৩ জন বাবা-মার সন্তানকে রেখেই নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আদালতে এসব বাবা-মায়ের দেশত্যাগের কথা জানানো হলেও তার কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তাদের অনুপস্থিতির বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আইনজীবীরা ‘পর্যালোচনার অধীন’ বলে দাবি করেছেন। একজন কেন্দ্রীয় বিচারপতির নির্দেশ মোতাবেক, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এসব বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের সন্তানদের পুনর্মিলনের জন্য সরকারের ওপর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর আগে সরকারি কর্মকর্তারা কিছু বাবা-মায়ের দেশত্যাগের কথা স্বীকার করলেও তার সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার পর্যন্ত ৮৭৯ জন বাবা-মাকে তাদের সন্তানদের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আদালতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মোট ৯১৭ বাবা-মা তাদের সন্তানদের সঙ্গে পুনর্মিলনের ব্যাপারে যোগ্য নয় অথবা তারা যোগ্য কিনা তা জানা যায়নি। এসব মানুষের মধ্যে সন্তানকে রেখেই নিজ দেশে ফিরে যাওয়া বাবা-মায়েরাও রয়েছে। এছাড়া অপরাধ বা অন্যান্য কারণে কিছু বাবা-মায়ের কাছে তাদের সন্তানকে ফিরিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অভিবাসন উপদেষ্টারা সন্তানকে রেখে দেশত্যাগ করা বাবা-মায়ের ব্যাপারে সতর্কতা জানিয়ে বলেছেন, এতে দেশে শিশু অভিবাসনের বিষয়টি নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

শিশু অধিকার রক্ষায় কাজ করা ‘কিডস ইন নিড অব ডিফেন্স’ নামে এক সংস্থার মুখপাত্র মেগান ম্যাককেননা এই মাসে শুরুতে রয়টার্সকে বলেন, ‘বাবা-মায়ের ইচ্ছা না জানতে পারলে আমরা কিভাবে একটি মামলা নিয়ে কাজ করতে পারি?’

সোমবারের প্রতিবেদনে পুনর্মিলন কার্যক্রমের অগ্রগতি থাকলেও এসিএলইউ এর প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, তাদের কাছে সন্তানকে রেখেই দেশে ফিরে যাওয়া বাবা-মায়ের কোনও তালিকা নেই।  সংস্থাটি আদালতে বলেছে, এসব বাবা-মায়ের জরুরিভিত্তিতে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। যাতে তারা ভুল করেও তাদের সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে রাখতে না চায়।

এসিএলইউ সরকারকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে এসব তথ্য সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য বিচারপতি সাবরোও এর প্রতি আহ্বান জানান। আর সরকার বলেছে, তাদের কাছে আরও ৫৩৮ জন বাবা-মা আছেন যাদের শিগগিরই তাদের সন্তানদের সঙ্গে মিলন করিয়ে দেওয়া হবে। সূত্র : রয়টার্স।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *