২৪শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২২শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

সব কূল হারিয়েছেন সু চি

সীমানা পেরিয়ে । মোহাম্মদ আবু নোমান

সব কূল হারিয়েছেন সু চি

অং সান সু চি এতদিন বিষধর সাপ [সেনাবাহিনী] নিয়ে ঘুমিয়েছেন! সাপের সাথে ছিলো সংসার! সু চির সাপ যখন তার সমর্থন নিয়ে মুসলিমদেরকে ছোবল দিয়েছে! গিলে খেয়েছে! সু চি খুশিতে তাধিন-ধিনতা গেয়ে নেচেছেন। মুসলিম মহিলাদের ধর্ষণ ও তাজা রক্ত নিয়ে খেললেও সু চি ভাবতেও পারেননি এই ‘সাপ’ একদিন তাকেই গিলে খাবে! রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই গাইতে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে) জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আইনি সিদ্ধান্তদাতা সংস্থা বা আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল পর্যন্তু গিয়েছেন। হত্যা-গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো বীভৎস ঘটনা করেও সু চি পার পেয়ে গেলে সেটা হতো গোটা বিশ্বের জন্যই লজ্জাকর।

মিয়ানমারের মুসলমানদের নির্যাতনের কল্পদৃশ্যের ছবিটা চোখের সামনে ভাসালে কোন শান্তিুপ্রিয় বিবেকবান মানুষই স্থির থাকতে পারবেন না। মায়ানমার সেনারা শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত ছিলো না। নির্যাতনের কারণে মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর শিশু, বৃদ্ধ, যুবক, যুবতীদের শরীর থেকে দেশীয় চাকু দিয়ে মাংশ আলাদা করে হাতে নিয়ে উল্লাস করতো। ভাবা যায়, কী হৃদয় বিদারক ও মর্মান্তিক অবস্থা!

প্রকৃতির প্রতিশোধ বড়ই নির্মম, এটা এখন সু চি টের পাচ্ছেন। এই মুহূর্তে সু চির দরকার আন্তুর্জাতিক সহায়তা ও সমর্থক। এতে অবশ্যই সু চিকে অতীত ভুলগুলোর জন্য ক্ষমার আহ্বান জানাতে হবে। এখন সামরিক জান্তুার হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে অতীত ভুলগুলোর ওপর দাঁড়িয়েই তাকে সহায়তার আহ্বান জানাতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বাহানায় নিরস্ত্র, নিরাপরাধ রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের নিধন করে নির্লজ্জ, ঘৃণিত, মানবতার শত্রু, সু চি মানবতারই বিরুদ্ধচারণ করেছেন। তবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, একদা মানবাধিকারের চ্যাম্পিয়ন নেত্রী অং সান সু চি সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত হয়েছেন। আইসিজেতে তিনি তার দেশের পক্ষে গণহত্যার দায় এড়িয়ে ‘সশস্ত্র সংঘাতের’ যে তত্ত্ব খাড়া করেছিলেন, সেটা পুরোপুরি নাকচ হয়ে গেছে।

মিয়ানমারে সেনা শাসন নতুন নয় এবং নতুন করে সামরিক অভ্যুত্থানের নাটকীয়তায় আমাদের বিস্মিত হওয়ারও কিছু নেই। বিশ্ব জুড়ে মিয়ানমারের জন্য বিশেষ কুখ্যাতি ছিল সামরিক শাসনের। মিয়ানমারে সেনাবাহিনীই যে দ-মু-ের গুরু, এখন তা আবারো প্রমাণিত হলো। মজা ও কৌতুকের দিক হলো, সেনাবাহিনী জানিয়েছে তারা সংবিধানের বিধান অনুযায়ীই ক্ষমতা নিয়েছে। যেভাবে শান্তির মুখোশে নোভেল জয়ী, ভয়ঙ্কর ক্ষমতা লোভী, অহিংস নেত্রীখ্যাত, মানবাধিকারের প্রতীক তকমাধারী, অং সান সু চি একদিকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন, অন্যদিকে হত্যা, ধর্ষণ, আগুন জ্বালিয়ে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়াসহ রোহিঙ্গাদের জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়ে একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার নীতি গ্রহণ করেছিলেন। হিটলারের নাৎসি সরকার যেমন ইহুদি জনগোষ্ঠীকে গ্যাস চেম্বারে পুরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল, সু চির সরকারও হত্যার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সব রকমভাবে সন্ত্রস্ত করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করে, মানুষের রাজনৈতিক ও আবাসিক অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের আচরণ সবসময়ই শুধু শঠতা, অমানবিকতাই নয়, ছিলো শতভাগ ন্যায়নীতির বিরোধীও। রাখাইনে তাদের ভিটেমাটি বুলডোজার চালিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। তাদের বসতভিটা এখন অচেনা জনপদে পরিণত হয়েছে। সেখানে কোনো একসময় রোহিঙ্গা জনবসতি ছিল এমনটা অনুমান করাও এখন দুঃসাধ্য।

১৯৬২ সাল থেকে টানা ৫০ বছরের সামরিক শাসনের পর গণতন্ত্রের পথে যাত্রায় ২০১৫ সালে দেশটিতে প্রথম নির্বাচন হলেও তা সেনাবাহিনীর প্রভাবমুক্ত ছিল না। অর্থাৎ দেশটি মাঝখানে মাত্র ১০ বছর ‘কথিত’ গণতন্ত্রের পথে বলা হলেও এ সময়েও সামরিক হস্তক্ষেপ যখন তখনই ছিল। এদিকে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে জনবিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী বলে খ্যাত অং সান সু চি। সু চি ও তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) জ্যেষ্ঠ নেতাদের দেশটির সেনাবাহিনী গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মাথায় জনবিক্ষোভের ডাক দেন। তার নামে প্রচারিত এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের জনগণকে বিক্ষোভ দেখানোর আহ্বান জানানো হয়।

ইতিপূর্বে গৃহবন্ধী থাকাবস্থায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে সংগ্রাম ও অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা এবং অঙ্গীকার করেছিলেন। তখন রোহিঙ্গা মুসলমানরা তার মুক্তির জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিল। অথচ ক্ষমতায় আসার পর সু চি রোহিঙ্গা নিপীড়নে মদদ দেন। সু চির মুক্তির জন্য আন্দোলনকারীরা জন্মভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিশ্বে অং সান সু চির যে জনপ্রিয়তা ও ভালো অবস্থান রোহিঙ্গা ইস্যু সামনে আসার পরই সেটি ধূলিসাৎ হয়ে যায়। শান্তিুতে নোবেলজয়ী সু চি সমালোচিত হন; বেশ কয়েকটি আন্তুর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা সু চিকে দেওয়া সম্মানসূচক ডিগ্রি ও পদক প্রত্যাহার করে নেয়।

গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারে দীর্ঘ বন্দিত্ব শেষে ২০১০ সালে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল অং সান সু চিকে। বিশ্ববাসী দেখেছে, সেই সু চি আন্তুর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ওঠা রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগের জবাব দিলেও, অপরাধ করা সত্ত্বেও তার দেশের সেনাবাহিনীর মধ্য থেকে জনপ্রিয়তা অর্জন ও সেনাবাহিনীকে রক্ষার চেষ্টা করলেও এখন সু চিরই রক্ষা হলো না। এখন বুঝতেছেন মজা…। স্বাভাবিকভাবেই এখন সু চি দেশের অভ্যন্তুরীণ শক্তি, আন্তুর্জাতিক সুনাম ও মিত্র তথা দুকূলই হারিয়ে চরম বিপদে পড়েছেন।

শুধু ক্ষমতাকে আঁকরে থাকার জন্য নীতি ও নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে সেনাবাহিনী কর্তৃক মুসলিম অধ্যুষিত রোহিঙ্গাদের বর্বর নির্যাতন ও বাধ্যতামূলক দেশত্যাগের ঘটনাকে সমর্থন দানের কারণে বিশ্বব্যাপী সু চির জনপ্রিয়তায় ধ্বস নামে। তাই সামরিক বাহিনী কর্তৃক ক্ষমতা গ্রহণ অবৈধ হলেও সু চির গ্রেফতারে অধিকাংশ বিশ্ব জনমত তার পক্ষে নেই বলে আমরা বিশ্বাস করি।
ইতিমধ্যে মিয়ানমারে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিং অং হ্লাইংয়ের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি এক বছর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন। আর সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ট সুয়েকে এক বছর মেয়াদে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমারে সেনা নিয়ন্ত্রণের ঘটনা অং সান সু চির জন্য একটি বড় শিক্ষা। দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তাকে দীর্ঘ ১৫ বছর গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। এ কারণে তাকে নোবেল শান্তিু পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। অথচ ক্ষমতার প্রলোভনে তিনি সেনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর চালানো জাতিগত নিধন ও তাদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে গেছেন। এ কারণে বিশ্বে তার ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। যে ক্ষমতার জন্য তিনি জেনে-বুঝে এ ক্ষতি মেনে নিয়েছিলেন, এবার সেই ক্ষমতা তাকে হারাতে হলো, নিয়তির এ এক পরিহাসই বটে!

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী একজন ব্যক্তি যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে থাকেন, সেখানে কিভাবে গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটে? কীভাবে সেদেশের রোহিঙ্গাদের নির্মমভাবে সেনাবাহিনী হত্যা করেছে? আজকের এই সভ্যযুগে নারী ও শিশুদের কীভাবে ধর্ষণ করতে পারে? কীভাবে লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে তাদের নিজেদের ভিটেমাটি থেকে?

সু চিকে গ্রেফতারের কারণে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইড়েনের হুশিয়ারি ও জাতিসংঘের মহাসচিব নিন্দা জানিয়েছেন। অথচ ইতিপূর্বে দায়িত্বশীল রাষ্ট্রগুলোর সীমাহীন গাফিলতি ও স্বার্থের হিসাব-নিকাশের কারণে মিয়ানমার এমন দুঃসাহস দেখাতে পেরেছে। রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন করে ভিটেমাটি থেকে মুছে দেয়ার বিভীষিকা দীর্ঘ দিন ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখের সামনে ঘটেছে। এখন দেখার বিষয় হলো, মিয়ানমারে গণতন্ত্র রক্ষায় আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলো কী পদক্ষেপ নেয়? ইরাক, লিবিয়া, মিসর, সিরিয়া, আফগানিস্তান, তিউনিসিয়াতে যেমন ‘গণতন্ত্র উদ্ধারে’ সেনা ও ন্যাটো সৈন্য পাঠিয়েছিল; মিয়ানমারে গণতন্ত্র উদ্ধারেও কী সৈন্য পাঠাবে? নাকি কেবল কঠোর ‘নিন্দা’ আর বিবৃতি জানিয়ে দায় সারবে?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেছেন, মিয়ানমারের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার যেকোনো ধরনের চেষ্টার বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক উত্তরণ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টারও বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র। এগুলোর ব্যত্যয় ঘটলে মিয়ানমারের দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অ্যাকশন নেওয়াসহ গ্রেপ্তারকৃতদের ছেড়ে না দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা বলতে চাই, এখন সু চিকে ছেড়ে না দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অথচ যখন হাজার হাজার রোহিঙ্গা হত্যা করা হয়েছিল তখন কোথায় ছিল মানবতা, কোথায় ছিল পশ্চিমারা? রোহিঙ্গা মুসলমানদের বেলায় এমন হুংকার কোথায় ছিল?

আমরা মনে করি প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার আগে চীনের কথাও মনে রাখতে হবে। কোন দেশের সেনাবাহিনী এতো অপরিপক্ক নয় যে, কোনো শক্তির ব্যাপআপ ছাড়াই ক্ষমতা দখল করবে! পেছনে শক্তিধর কোনো দেশের মদদ ও সাপোর্ট ছাড়া সেনা ক্যু হতে পারে না। প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে মনে রাখতে হবে, সেনাবাহিনী যে কারণে সু চির হাত থেকে ক্ষমতা ছিনতাই করেছে, চীনও একই কারণে তাতে সমর্থন দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক শাসনের শিকড় বিস্তার দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রভাব বাড়াতে পারে বলে চীনের বিশেষ ভাবনা রয়েছে। চীনের কাছে মিয়ানমারের ভূকৗশলগত গুরুত্ব উত্তর কোরিয়ার মতো। সীমান্ত লাগোয়া এই দেশগুলোতে চীন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রভাবই দেখতে চায় না এবং সেটা যেকোনো মূল্যে। কেবল সামরিক অভ্যুত্থান নয়, মিয়ানমারজুড়ে খনিজ সম্পদ লুণ্ঠন এবং জাতিগত নিপীড়নেও চীন স্থানীয় জেনারেলদের নির্ভরযোগ্য বন্ধু হয়ে ছিল দশকের পর দশক ধরে। ফলে ধারণা করা যায়, জনগণের মতামতের বিরুদ্ধে চলতি সেনা আগ্রাসনেও চীনের নীরব সম্মতি রয়েছে।

মিয়ানমারে মানবাধিকার, ভোটাধিকার, গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ফিরে আসুক। সহিংসতা থেকে সব পক্ষকে বিরত থাকতে হবে। মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি পুরোপুরি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। জনগণের ভোটে রোহিঙ্গাদের সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ ও বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার মানসিকতাসম্পন্ন সরকার ক্ষমতায় আসুক এটাই আমাদের কামনা।

লেখক : কলামিস্ট

abunoman1972@gmail.com

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com