২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

সম্প্রীতি বজায়ে নজীরবিহীন বাংলাদেশ

religious love image

  • আমিনুল ইসলাম কাসেমী

জোশের সাথে হুঁশ ঠিক রাখুন। কখনো অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয়। একটা শান্ত-সুন্দর পরিবেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া চরম অপরাধ। তাছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আমাদের কাছে আমানত। তাদের নিরাপত্তা, তাদের ধর্মীয় কাজ অবাধে করতে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। দু’চারজন লোকের ভুলের কারণে পুরো সম্প্রদায়কে দোষারোপ করা দায়িত্ব জ্ঞানহীন লোকের পরিচয় বহন করে।

সোনার এদেশ। আমাদের বাংলাদেশ। একটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান কাঁধে কাঁধ মিলে চলাফেরা করে। এরকম সম্প্রীতির দেশ পৃথিবীর বুকে পাওয়া দুস্কর। কেননা এদেশে একই স্থানে মসজিদ এবং মন্দির রয়েছে। একটা দুটো নয়। শত শত মসজিদ-মন্দির একই জায়গায়।

একদিকে মসজিদে আজান দিয়ে নামাজ পড়া হচ্ছে। আবার তারই পাশে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের পুজা-অর্চনায় ব্যস্ত। কেউ কারো উপসনায়ে বাঁধা দিচ্ছে না। বরং নিজ গতিতে ইবাদতে মশগুল রয়েছে। এরকম সুসম্পর্ক, এরকম সম্প্রীতি-ভালোবাসা আর কোথাও দেখা যায় না।

আরো অবাক হব আমরা,  হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজোর কাজে সহযোগিতা করে মুসলিমেরা। তাদের মুর্তি পাহারা দেয় এদেশের মুসলমানেরা। হিন্দুদের মুর্তির কেউ যেন ক্ষতি করতে না পারে তার জন্য মুসলমানগণই সব সময় সহযোগিতা করে থাকেন।  রাত জেগে মুসলিম ভায়েরা তাদের  উপসনালয় পাহারা দেয়। এরকম নজীরবিহীন পরিবেশ আর কোথাও দেখা যায় না।

মোটকথা নজীরবিহীন সম্প্রীতির দেশ আমাদেরই বাংলাদেশ। এ যেন ভালোবাসার শক্ত বন্ধনে আবদ্ধ সকলে। যতই আসুক ঝড়-তুফান সর্বাবস্থায় আমরা মিলে মিশে থাকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।

“মোটকথা নজীরবিহীন সম্প্রীতির দেশ আমাদেরই বাংলাদেশ। এ যেন ভালোবাসার শক্ত বন্ধনে আবদ্ধ সকলে। যতই আসুক ঝড়-তুফান সর্বাবস্থায় আমরা মিলে মিশে থাকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।”

এদেশে হিন্দু মুসলিমের যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সেটা আর কোথাও দেখা যায় না। অফিস, আদালত, ব্যবসা, বাণিজ্য এবং রাজনীতিতে পুরো হিন্দু মুসলিমকে একই কাতারে দেখা যায়। দেশ পরিচালনায় একজন মুসলিম যেমন অবদান রাখছে, তেমনি একজন হিন্দুও মুসলিমের কাঁধে কাঁধ রেখে, হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলেছে।

মোটকথা নজীরবিহীন সম্প্রীতির দেশ আমাদেরই বাংলাদেশ। এ যেন ভালোবাসার শক্ত বন্ধনে আবদ্ধ সকলে। যতই আসুক ঝড়-তুফান সর্বাবস্থায় আমরা মিলে মিশে থাকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।

আরও পড়ুন: হারিয়ে যাচ্ছে সুবাহি মক্তব

দেশের বিভিন্ন জায়গাতে এই সম্প্রীতি বিনষ্ট করার পাঁয়তারা চলছে। নানাবিধ ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করা হচ্ছে। যেটা স্পষ্ট ভাবে বোঝা যায়। কেননা, এদেশের সকল ধর্মের লোক একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কেউ কখনো  কারো উপরে আক্রমণ চালায় না। কেউ কারো ধর্মের উপরে আঘাত দেয় না। সুতরাং যে সব বিষয় নিয়ে দেশে বর্তমান তুলকালাম কান্ড ঘটে যাচ্ছে, এর মধ্যে কোন দুরভিসন্ধি কাজ করছে কিনা খতিয়ে দেখা দরকার।

কোন তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন উড়িয়ে দেওয়া যায় না। একটা শান্ত-সাবলিল পরিবেশেকে বিনষ্ট করার  জন্য কেউ উস্কে দিতে পারে।  বিষয়টা নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করা দরকার। আল কোরআনের অবমাননা কেউ বরদাশ করবে না। কোন মুসলমান এটা মেনে নেবে না। তবে আড়াল থেকে কেউ কলকাঠি নাড়ছে কিনা সেটা গভীর ভাবে দেখার দরকার। কোন হুজুগে কিছু করা কাম্য নয়। এই মুহুর্তে সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের পুজো চলছে।

দেশের মধ্যে কেউ অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করে হিন্দু সম্প্রদায়ের পুজো অর্চনাকে বাঁধা সৃষ্টি করে মুসলিম এবং আলেম উলামাদেরকে কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী খেতাব দিতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি চাই সকলের। আল্লাহ তায়ালা সকলকে সহী বুঝ দান করুন। আমিন।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট 

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com