পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতনের দায়ে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে দেওয়া সম্মানসূচক প্যারিস শহরের স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহার করা হচ্ছে। সম্মাননা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্যারিসের মেয়র অ্যানা হিদালগো। গ্লাসগো, এডিনবরা ও অক্সফোর্ডের পর এবার সু চিকে দেওয়া সম্মানসূচক পদক প্রত্যাহার করলো প্যারিস।
চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সিটি কাউন্সিল এ বিষয়টি চূড়ান্ত করবে বলে জানিয়েছেন প্যারিসের মেয়র। প্যারিসের মেয়র অ্যানা হিদালগো-এর এক মুখপাত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সিটি কাউন্সিল এ বিষয়টি চূড়ান্ত করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে প্যারিস শহরের মেয়রের দফতর থেকে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে লেখা এক চিঠিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে উদ্বেগ এবং তাদের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছিলেন প্যারিসের মেয়র। কিন্তু মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সেই চিঠির কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি।
এর আগে একই ইস্যুতে অং সান সু চিকে দেওয়া একই রকম পদক কেড়ে নিয়েছে গ্লাসগো, এডিনবার্গ ও অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষ। সেই একই ধারায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের দেওয়া ফ্রিডম অব প্যারিস পদক কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর বর্বরতার দায়ে সু চিকে দেওয়া কানাডার সম্মানজনক নাগরিকত্ব এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ‘অ্যাম্বাসেডর অব কনসাইন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে সু চির দিক থেকে ক্রমেই মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে মিয়ানমারের তরুণ সমাজও। তরুণদের মাঝে সু চির আবেদন কমছে বার্তা বলে এক প্রতিবদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে সু চিকে ‘হারানো আদর্শ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের তরুণ অধিকারকর্মী ও টেলিভিশন উপস্থাপিকা থিনজার শুন লি ই (২৭) এক সময় বলতেন, অং সান সু চির সবচেয়ে বড় ভক্তদের অন্যতম তিনি। কিন্তু এখন তিনিই সু চির সবচেয়ে কড়া সমালোচকদের অন্যতম হয়ে উঠেছেন। উচ্চ পদ মর্যাদার উদার অধিকারকর্মীদের একটি ছোট্ট গ্রুপ গড়ে উঠেছে মিয়ানমারে। এ গ্রুপটির বেশির ভাগ কর্মী এক সময় সু চির কট্টর সমর্থক ছিলেন।
রোহিঙ্গা নির্যাতনে সু চির বিষয়টা এখন সারা বিশ্বে পরিস্কার। তাই ক্রমেই আর্ন্তজাতিক বিশ্বে নিজের ও দেশের অবস্থান দুই হারাচ্ছেন সু চি।


