হার্ড ইমিউনিটির সম্ভাবনা ক্ষীণ, তৈরি হচ্ছে না পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি

হার্ড ইমিউনিটির সম্ভাবনা ক্ষীণ, তৈরি হচ্ছে না পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের হার্ড ইমিউনিটি গঠন হওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এলার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস এর পরিচালক ড. অ্যান্থনি ফাউসি সপ্তাহখানেক আগেই বলেছেন, তাদের দেশে কভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি আনা অসম্ভব হতে পারে। এবার এক স্প্যানিশ স্টাডিও হার্ড ইমিউনিটির সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করল।

হার্ড ইমিউনিটি বলতে বোঝায়, কোনো জনসমষ্টির বড় একটি অংশ যখন কোনো সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে টিকাদান বা অন্য কোনো উপায়ে অনাক্রম্যতা অর্জন করার সুবাদে রোগটির বিস্তার প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়। অন্যভাবে বললে, যখন প্রচুর মানুষ ভাইরাসে সংক্রমিত হয় তখন ভাইরাসের বিস্তার বন্ধ হয়, বা হার্ড ইমিউনিটি অর্জিত হয়।

যারা সংক্রমিত হয়নি তাদের রক্ষা করতে হলে কোনো জনগোষ্ঠীর অন্তত ৭০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে ইমিউনিটি তৈরি হওয়াটা জরুরি। সেটি টিক দান বা ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হওয়ার মাধ্যমে অ্যান্টিবডি তৈরি হলেই সম্ভব হয়। এটিই হার্ড ইমিউনিটি বা গোষ্ঠী প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

মেডিকেল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট’ এক প্রতিবেদনে জানায়, স্পেনে ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা যায়, মাত্র ৫ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে মাত্র ৩ শতাংশ মানুষের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, আবার স্পেনের যেখানে প্রাদুর্ভাব মারাত্মক পর্যায়ে ছিল সেখানে অ্যান্টিবডি প্রাপ্তির হার বেশি।

সমীক্ষা প্রতিবেদনের লেখক বলেন, ‘স্পেনে কভিড-১৯ এর উচ্চ প্রভাব থাকলেও, অ্যান্টিবডির ব্যাপকতা খুব কম ও হার্ড ইমিউনিটির জন্য যা সুস্পষ্টভাবেই অপর্যাপ্ত। সামর্থ্যবান জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেক মানুষের মৃত্যুর ক্ষতি আর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর প্রবল চাপ মেনে নেয়া ছাড়া এটি কোনোভাবেই অর্জন করা সম্ভব নয়।’

ইউরোপে নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে এ ধরণের সমীক্ষার মধ্যে এটিই সর্ববৃহৎ। এমন গবেষণা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রেও হয়েছে। ল্যানসেট বলছে, সব গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ মানুষই বলছেন তারা করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে যাননি, এমনকি যেসব এলাকায় খুব বেশি মাত্রায় প্রাদুর্ভাব ঘটেছে সেখানেও।

ব্রিটিশ ইমিউনোলজি সোসাইটির মুখপাত্র ও ইম্পেরিয়াল কলেজের ইমিউনোলজির অধ্যাপক ড্যানি অ্যাল্টম্যান এ স্টাডি নিয়ে বলেন, ‘এমন তথ্য পাওয়ার পর বলতে পারি, ভয়ংকর সংক্রমণের মুখোমুখি হয়ে, যা কিনা সংক্ষিপ্ত ইমিউনিটি তৈরি করে, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সমস্যা মোকাবেলার জন্য সম্ভাব্য সেরা ভ্যাক্সিন বের করে আনা।’

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *