হাসপাতালে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ : ফখরুল

হাসপাতালে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ : ফখরুল

পাথেয় রিপোর্ট : বাংলাদেশ হাসপাতালে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যশোরের যুবদল কর্মী ফয়সালকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ৩০ ডিসেম্বর (রোববার) নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামী লীগ প্রতিটি জেলায় নির্যাতন, নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, যশোর যুবদল কর্মী ফয়সালকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তার শরীরে আট ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল করার যে গ্রুপিং-কৌশল করেছিল তা জাতির সামনে উঠে এসেছে। তাদের লজ্জা নেই, শরম নেই। সারাদেশের কোনো লোকের মুখে কোনো হাসি নেই, কারো মুখেই হাসি দেখি না, নির্বাচন নিয়ে সবার বুকের মধ্যে কষ্ট। তিনি বলেন, ক্ষমতা কি ভয়ঙ্কর! মানুষকে আর মানুষ মনে হয় না। তারা এতো বড় একটা চুরি করেছে যে তা এখন সামাল দিতে পারছে না।

এদিকে নির্বাচনে ‘প্রহসন’ ও ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে স্টেডিয়ামে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ফের বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিলের অ্যাজেন্ডা থাকলেই তাঁরা সংলাপে যাবেন। তা না হলে যাবেন না।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আহত যুবদল কর্মী ফয়সাল হোসেনকে দেখতে যান।

গতকাল সোমবার দুপুরে সিলেটে হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সংলাপের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবার সংলাপে অবশ্যই ‘নির্বাচন বাতিলের’ বিষয়টি অ্যাজেন্ডা হিসেবে থাকতে হবে। অ্যাজেন্ডা জানলে সংলাপে যাওয়ার বিষয়টি তাঁরা বিবেচনা করবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত রোববার সংলাপের প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছিল, তাদের আবার আমন্ত্রণ জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। সিলেটে এ সংলাপের ব্যাপারে মির্জা ফখরুল বলেন, সংলাপের অ্যাজেন্ডা তো আমরা জানি না। নিঃসন্দেহে যখন আমাদের অ্যাজেন্ডা জানাবেন, তখন আমরা সে বিষয়ে বিবেচনা করব।

বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, আওয়ামী লীগের হামলার বিষয়গুলো জাতির সামনে উঠে আসছে। তবে তাদের (আওয়ামী লীগ) লজ্জা–শরম বলতে কিছু নেই। তারা মহাবিজয়ের কথা বলছে। অথচ মহাবিজয়ে সারা দেশের মানুষের মুখে কোনো হাসি নেই। মির্জা ফখরুল দাবি করেন, স্বাধীনতাযুদ্ধ–পরবর্তী সময়েও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় বিরোধী দলের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছিল, হত্যা করেছিল। অথচ দলটি স্বাধীনতাযুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *