হেলমেটরহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ছাত্রদল নেতা

হেলমেটরহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ছাত্রদল নেতা

পাথেয় রিপোর্ট : অনেক বেশি আলোচনায় ওঠে এসেছিলেন হেলমেটধারী সেই ব্যক্তি। সবাই মিডিয়ায় যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছিল কে সে? অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে সাহসী মানুষের সঙ্গেও তুলনা করছিল। শেষতক হেলমেটধারীকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়েছে পুলিশ। হেলমেট পরে লাফানো যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি ছাত্রদলের নেতা বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার নাম এইচ কে হোসেন আলী ওরফে হৃদয় খান।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গাড়িতে এই হেলমেটধারী লাফালাফি করছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওইসব সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হোসেন আলী ছাত্রদলের নেতা। তবে তাকে কখন ও কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তারা।

গত বুধবার বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিতে আসা নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন দেয়ার ছবি আসে। সেদিনের ঘটনার ভিডিও চিত্র এবং স্থিরচিত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুলিশ জানায়, হামলাকারীদের সবাই বিএনপি এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মী। সংঘর্ষের সময় সাদা হেলমেট, কালো শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পরা অবস্থায় ছিলেন হোসেন আলী।

বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ওই ঘটনায় অংশ নেওয়া আরও দুই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা হলেন সোহাগ ভূঁইয়া ও আশরাফুল ইসলাম ওরফে রবীন। আশরাফুল ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সোহাগ শাহজাহানপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। ঘটনার দিন মির্জা আব্বাসের পক্ষে মিছিল নিয়ে সোহাগ ভূঁইয়া, হোসেন আলী ও আশরাফুল নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেদিন পুলিশের গাড়িতে যে যুবক আগুন দিয়েছিল তার নাম শাহজালাল খন্দকার বলে জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি পল্টন থানা ছাত্রদলের নেতা।

নয়াপল্টনে সংঘর্ষের ওই ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আসামি করে তিনটি মামলা করে পুলিশ। মামলাগুলোতে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, রাস্তা অবরোধ, পুলিশকে মারধর ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়।

প্রসঙ্গত, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক বেবী নাজনীন ও নিপুন রায় একই গাড়িতে করে দলীয় কার্যালয় থেকে বের হন। গাড়িটি নাইটিঙ্গেল মোড়ে পৌঁছলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তবে আধা ঘন্টা পরেই বেবী নাজনীনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার (পূর্ব) মো. নুরুন্নবী বলেন, নিপুন রায়কে আমরা অ্যারেস্ট করছি। তিনি গতকালের ঘটনার মামলার আসামি। বেবী নাজনীনকে আটকের খবরের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তাকে অ্যারেস্ট করিনি।

বুধবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা পল্টন থানায় তিনটি মামলা করা হয়। তিনটি মামলাতেই নিপুন রায়কে আসামি করা হয়েছে। গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, রাস্তা অবরোধ, পুলিশকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এসব মামলা হয়েছে।

এদিকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হওয়ার পর থেকেই তিন দিন ধরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয় এলাকায় বইছিল নির্বাচনী উৎসবের হাওয়া। বিপুল পরিমাণ বিএনপি নেতা-কর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে সেখানে। বুধবার দুপুরে পুলিশের ‘রাস্তা চালু রাখার চেষ্টা’য় উৎসবের পরিবেশ সংঘাতময় হয়ে ওঠে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি পোড়ানো হয়, ভাঙচুর করা হয় অনেক গাড়ি। এরপর থেকেই চলছে দোষারোপ আর পাল্টা দোষারোপ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *