পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সচতেনতা সবার আগে। আগুন নিয়ে খেলা করা বোকামী। আগুন মানুষের উপকারের একটি জিনিস। একে গর্বের ধন বলা যেমন বোকামী তেমনি অসচেতনভাবে কোথাও জ¦লতে দেওয়াও বোকামী। আগুনে কিছু রেখে যায় না। দেশে সচেতনতার পাশাপাশি দুর্বৃত্তরাও নানা কারণে আগুন নিয়ে খেলে থাকে। এর পরিণাম নিঃসন্দেহে ভয়াবহ। এ ভয়াবহতা থেকে আমাদের বাঁচতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে। করতে হবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন।
যে কোনো কারণেই আগুন লাগলে বাঁচার উপায় কী? ভবন তৈরীর আগে তা ভাবা উচিত। পরে নয়। অপকম্মে জড়িত কারও যেনো আর ছাড় না হয়। আমরা কী দেখলাম, চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানীর বহুতল ভবনে ঘটে গেছে আরেক হৃদয়বিদারক অগ্নিকা-। এতে একজন বিদেশিসহ প্রাণ গেছে অন্তত ২৫ জনের। ২৩তলা ভবন থেকে দ্রুত নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন কিংবা ধোঁয়ায় দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আরো ৮৬ জন। নিখোঁজ আছেন ১০-১২ জন।
বনানীর আগে চকবাজার, নিমতলী, তাজরীন ফ্যাশনসসহ অন্যান্য অগ্নিকাণ্ডে শত শত মানুষের মৃত্যু দেখেছি আমরা। বনানীর রেশ কাটতে না কাটতেই আবার ঘটলো গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটে আগুনের ঘটনা। কিন্তু তাতে আমাদের তখনো হুঁশ হয়নি এখন হবে কী?
জানা যায়, বনানীর ভবনটিতে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। রাজউক থেকে ১৮ তলার অনুমোদন নিয়ে করা হয়েছে ২৩ তলা। অগ্নিকাণ্ডে জরুরি অবতরণের জন্য অত্যন্ত অপ্রশস্ত একটি সিঁড়ি ছিল, যা দিয়ে এত লোকের নামাটা ছিল অসম্ভব। তার ওপর জরুরি বহির্গমনের কলাপসিবল গেট বন্ধ ছিল। ভেতরে ফায়ার অ্যালার্ম ছিল না। যথেষ্ট অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতি ছিল না। যা ছিল তা-ও ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল। অগ্নিনির্বাপণে প্রশিক্ষিত জনবল ছিল না। ছিল না ফায়ার হাইড্রেন্ট বা জরুরি পানির মজুদ। এমন ঘটনায় মানুষ দৌড়ে ছাদে যায়, সেখান থেকে উদ্ধারকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে। কিন্তু এই ভবনটির ছাদেও মানুষের দাঁড়ানোর মতো জায়গা ছিল না। ফলে ভবনটিতে অগ্নিকাণ্ডের সময় থাকা নিরুপায় মানুষের এই মৃত্যুকে কি শুধুই দুর্ঘটনা বলা যাবে?
আমরা শুধু আইন মানি না, তা নয়। আইন না মানাকে আমরা যেন নিজেদের ‘ফ্যাশন’ মনে করি। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা একটি আইন, যা সবাইকে মানতে হবে। আমরা মনে করি, আইন মানাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। ঢাকা মহানগরীর ভবনগুলো ঠিকমতো তৈরি হচ্ছে কি না তা দেখার দায়িত্ব রাজউকের। অতীতে এমন অনেক ঘটনায় রাজউকের চূড়ান্ত অবহেলাই সামনে এসেছে।
গণপূর্তমন্ত্রী বলেছেন, বনানীর ঘটনায় রাজউকের অবহেলা বা কোনো অনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের ক্ষমা করা হবে না। আমরা চাই, এটা যেন শুধু কথার কথা না হয়। জানা যায়, বনানীতে যাঁরা হতাহত হয়েছেন, তাঁদের একটি বড় অংশই ভয়ে লাফিয়ে পড়েছিলেন। আগেও এমনটা দেখা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের করণীয় সম্পর্কে সচেতনতার অভাবই এর জন্য দায়ী। এ ক্ষেত্রে বহুতল ভবন, স্কুল-কলেজসহ নানা জায়গায় বড় পরিসরে মহড়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে। আমরা আশা করি, শিগগিরই তেমন কর্মসূচি নেওয়া হবে।


