অনাবাসিক মহিলা মাদ্রাসা চাই

অনাবাসিক মহিলা মাদ্রাসা চাই

অনাবাসিক মহিলা মাদ্রাসা চাই

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : কিছু কিছু মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষকদের যেসব অনৈতিক কার্যকলাপ প্রকাশ পাচ্ছে বা প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে মহিলা মাদ্রাসাগুলোকে আর আবাসিক রাখা যায় না।

বহু আগে থেকে মহিলা মাদ্রাসার অভ্যন্তরিণ বিষয়গুলো নিয়ে ওলামায়ে কেরামের আপত্তি ছিল । কিন্তু যারা মহিলা মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণ করেন, তারা এটাকে আমলে আনছিলেন না। শুনেও তারা না শোনার ভান করে ছিলেন।

কিন্তু বর্তমানে মহিলা মাদ্রাসার ভিতরগত বিষয়গুলো স্পষ্ট হতে চলেছে। আস্তে আস্তে সব কিছু প্রকাশিত হচ্ছে জাতির সামনে। পরিস্থিতি এমন, এগুলো আর ঢেকে রাখার বিষয় নয়। সব কিছু বেরিয়ে আসছে।

মহিলাদের ইলমে দ্বীন শেখা ফরজ। পুরুষের যেমন ফরজ। মহিলাদের উপরও ফরজ। তবে মহিলাদের ইজ্জত- আবরু হেফাজত করাও ফরজ। মহিলাদের পর্দায় থাকা ফরজ।
দুঃখের বিষয়, কিছু কিছু মহিলা মাদ্রাসায়, এখন আর ইজ্জত- আবরু হেফাজতে থাকছে না। সেখানে পর্দা মেইন্টেন করা হচ্ছে না।

নামে মহিলা মাদ্রাসা। কিন্তু পুরুষ শিক্ষকে ভরপুর। মহিলা শিক্ষিকা নেই। থাকলেও নামে মাত্র। আর মহিলা মাদ্রাসায় দাপট যত পুরুষ শিক্ষকের। সম্পুর্ণ নিয়ন্ত্রণ করেন পুরুষেরা। যার কারণে সমস্যটা বেশী হচ্ছে।

আবাসিক মহিলা মাদ্রাসা গুলোতে ছাত্রীদের নিরাপত্তার বড় অভাব। পুরুষ শিক্ষক নিয়ন্ত্রিত মহিলা প্রতিষ্ঠানে বড় ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রায় অনেক জায়গাতে। কিছু চরিত্রহীন শিক্ষকদের কারণে ছাত্রীদের ইজ্জত- আবরুর হেফাজত হচ্ছে না।

আবার কিছু জায়গায় দেখা যায়, মহিলা শিক্ষিকা থাকলেও, কিছু চরিত্রহীনা শিক্ষিকার কারণে, আবাসিক ছাত্রীদের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখিন। ওসব চরিত্রহীনা শিক্ষিকার কারণে, অনেক ছাত্রী বিপদগামী হচ্ছে। আবাসিক ব্যবস্হাপনা যদিও মহিলা নিয়ন্ত্রিত,তবে সেটা কিছু চরিত্রহীনা শিক্ষিকার কারণে আবাসিক ছাত্রীদের নিরাপত্তা নেই।
একারণে মহিলা মাদ্রাসা গুলোকে আর আবাসিক ব্যবস্থাপনায় রাখা ঠিক হবেনা। যেহেতু ইলমে দ্বীন শেখা মহিলাদের উপরও ফরজ, তবে সেটা অনাবাসিক ব্যবস্থাপনায় হলে সব চেয়ে ভাল হয়।

আজকাল অধিকাংশ মহিলা মাদ্রাসায় সৎ,যোগ্য,এবং চরিত্রবান শিক্ষকের বড্ড অভাব দেখা দিয়েছে। কিছু লোক ফারেগ হওয়ার পর নিজের অযোগ্যতার কারণে যখন কোথাও কোন মাদ্রাসায় খেদমত এর সুযোগ হয় না, তখন সে মহিলা মাদ্রাসা খোলার চিন্তা করে। তার জন্য বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে, বা কোন ফ্লাট ভাড়া নিয়ে মহিলা মাদ্রাসা খুলে দেয়।

এসব মহিলা মাদ্রাসায় শুরু হয়, স্বেচ্ছাচারিতা। সব কিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে মাদ্রাসা চালায়। কোন মুরুব্বী নেই সেখানে। কোন পরিচালনা কমিটিও থাকে না।নিজের যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন ওসব মাদ্রাসার প্রধানেরা।

এভাবে চলছে বহু মাদ্রাসা। ভিতরে ভিতরে বহু সমস্যা রয়েছে। তার কিছু প্রকাশ হয়, আর কিছু প্রকাশ হয় না।

এজন্য আমাদের মুরুব্বী উলামায়ে কেরামের এসকল মহিলা মাদ্রাসার দিকে নজর করা দরকার। একটা নিয়ম- নীতি বেঁধে দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে,মহিলা মাদ্রাসা অনাবাসিক হোক এবং পুরুষ মুক্ত হোক। নইলে অদুর ভবিষ্যত সমস্যাটা আরো প্রকট হবে।

আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।

পুনশ্চ : রাজধানীতে শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ-এর সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনু পরিচালিত অনাবাসিক গার্লস মাদরাসা চালু হয়েছে গত কয়েকবছর ধরে। এখানে মেয়েরা হিফজও পড়তে পারে।

লেখক : শিক্ষক ও গবেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *