অনুভবে বসতের দিন

অনুভবে বসতের দিন

মাহবুবুর রহমান : ঘড়ির কাঁটা ১১টা ছুঁইছুঁই । ওই যে দূরের আকাশে গণগণে সূর্যের ভেতরে একটা আলোক রশ্মি চকচক করে । মেহেগুনি ও বাঁশ বাগানের কঁচিপাতা ভেদ করে সেই আলো উপচে পড়ছে টলমল পানিতে । গ্রীষ্মের এই মার্তন্ড তাপ আমাদের মত কঁচি খোকাদের কাছে একদম অসহনীয় ঠেকে। গায়ে পাতলা একটা গেঞ্জি ও রাখা যায় না ।

চারদিকে রোদ্দুর খাঁ-খাঁ করে । পিঁচঢালা রাস্তায় মরিচিকা খেলা করে । গাঙপাড়ে ধু-ধু মরুভূমির ন্যায় বালুচর চিকচিক করে । দূর থেকে দেখলে মনে হয় পানি আছে , অথচ সেখানে পানির চিহ্নও নেই । এখানে খাপ খায় মত একটা চরণ মনে পড়ল ‘ বহুদিন আগে কোথায় যেন পড়েছিলাম । পথিক মরুভূ মাঝে খুজিয়া বেড়ায় জল, জল তো মিলে না সেথা মরিচিকা করে ছল”

এমন কাঠফাঁটা রৌদ্রে গাছপালা,পশু-পাখি সব । সবকিছুই কেমন যেন ঝিমিয়ে পড়ে । বাতাসের প্রবাহ শক্তি শ্লথ হয়ে পড়ে । একটা পাতাও নড়েনা তখন ।গরমের এই হাঁসফাঁস ও হাওয়া শুণ্য স্তব্ধতায় জনজীবন পিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ।

ওই যে লম্বা লম্বা শেকড়ের ইয়াব্বড় যে বটগাছটা যার নিচে দোকানিরা প্রতি হাঁটে বিভিন্ন ধরনের পসরা সাজিয়ে বসে, এখন এই ছায়াভরা গাছতলায় কয়েকজন কৃষাণী,দিনমজুরওভ্যানচালক এসেছে ,একটু জিরিয়ে নিতে, একটু শীতল পরশ নিতে।
তাদের গা ও মাথা থেকে দরদর করে ঘাম পড়ছে ।

তারপরে ও রাব্বুল আলামীন আমাদের দেহমনে তাঁর অফুরন্ত রহমতের বারিধারা ও শীতলতা ঢেলে দেন বলে, আমরা অতটা অস্থিরতা অনুভব করি না । বরং সবসময় কিছুটা সতেজভাব বিরাজ করে । পড়ন্ত বিকেলে, মানে পশ্চিমাকাশে সূর্য যখন যাই যাই করে তখন পথের ধারে পত্র-পল্লবে ভরা সারি সারি গাছ পালার খোলা হাওয়া আমাদের বুকে বইয়ে দেয় একধরনের ঠান্ডা ও ভেজা হাওয়া । গ্রীষ্মের এই চোখ ঝলসানো রোদ্দুরে এমন ভেজা হাওয়ার জন্যই হয়ত আমাদের তনু-মন সদা তৃষিত হয়ে থাকে । সারাদিন অস্থিরতা দূর হয়ে যায় এমন ঠান্ডা হাওয়ায় । দেহ-মনে শুরু হয়ে যায় আনন্দোৎসব ,সেই উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়ে সবার চোখে,মুখে ।

সন্ধ্যা উৎরে গেলে স্বচ্ছ আকাশে দেখা মেলে জ্যোৎস্নাময় চাঁদের । আলোয় আলোয় স্নাত চাঁদের । কবি-সাহিত্যিকের ভাষায় “রূপার থালার মত একটা চাঁদের ” ছোট্ট শিশুর নরম তুলতুলে গালের মত জ্যোৎস্নার । যে জ্যোৎস্না গলেগলে পড়ে, মধ্য উঠোনে দাঁড়ানো জাম গাছটির কঁচিপাতায় । পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় গায়ের পাশ ঘেষে বয়ে চলা নোনা গাঙের জল চকচক করে ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *