পাথেয় ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়া বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসকে মাস্টার্সের সমমান দেয়া তথা স্বীকৃতি সনদ বাস্তবায়ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতীয় সংবর্ধনা দেবে কওমী মাদরাসা সম্মিলিত শিক্ষা বোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যা।
২১ অক্টোবর রোববার বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়্য,কাজলা ভাঙ্গা প্রেস অফিসে হাইয়াতুল উলইয়ার এক বিশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যা সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
রোববার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হাইয়াতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফির সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়ার ব্যাপারে সবাই তাদের মতামত পেশ করে এবং সংবর্ধনা দেয়ার বিষয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এতে জানানে হয় যে, সারাদেশর দাওরাহাদীস অন্তভুক্ত প্রত্যেক মাদরাসার মোহতামিমগণ এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে।
তবে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান কবে হতে যাচ্ছে সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলা জানা যায়।
এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, শায়খুল হাদীস আল্লামা আশরাফ আলী, শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম ও বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আব্দুল হালীম, মুফতি মুহাম্মদ আলী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আনোয়ার শাহ, মুফতি রুহুল আমিন, মুফতি ওয়াক্কাস, মুফতি মাহমুদ, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা বাহাউদ্দীন নাসির, মাওলানা যুবায়ের আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।
একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি ক্রেস্ট সম্মাননা তুলে দেয়া হতে পারে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।
সংবর্ধনায় শুধুই কি ক্রেস্ট দেয়া হবে, নাকি থাকবে আরও কিছু? এ নিয়ে সুস্পষ্ট মতামত পাওয়া যায়নি। তবে হাইআতুল উলয়ার বিগত মিটিংয়ে বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।
সেখানে অনেকেই কুরআন শরিফ, জায়নামাজ বা হিজাবসহ অন্যান্য ইসলামিক বিষয়াদির কথা তুলে ধরেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক শ্রেণির আলেম উলামা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়ার বিষয়টি নেতিবাচকভাবে উল্লেখ করলেও বেশির ভাগ আলেম উলামা এটি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যার বৈঠকেও বিষয়টি খুবই গুরুত্ব পেয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, হাইয়ার চেয়ারম্যান আল্লাহ আহমদ শফী সরাসরি দাওয়াত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যাবেন এবং দাওয়াত প্রদান করবেন।
আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, যথা নিয়মে দাওয়াত দেয়া হলে প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনায় রাজি হবেন।


