গণমাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার খবরই এখন প্রধান। সড়কে আমরা মেধা হারাচ্ছি, জীবন বিলিয়ে দিচ্ছি। কত আশা আকাঙ্ক্ষার পারদ এমনিতেই সড়কে বিলিয়ে দিচ্ছি। এক এনালড পদ্ধতিতে মানুষ হেঁটে চলে যেতো বহুদূর। কিন্তু এমন সড়ক দুর্ঘটনার বিড়ম্বনা ছিল না। তবে সড়কে শৃঙ্খলানো ফেরানোর চেষ্টাটা খুবই জরুরি।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে টনক নড়েছিল, কিন্তু কমেনি সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং বাড়ছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন আবার পথ চিনেছে, রাজপথে ফিরে এসেছে। নেওয়া যাচ্ছে না লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা। অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, শুধু আন্তরিকতার অভাবেই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি।
সরকারি হিসাব মতে, দেশে ৩২ লাখ গাড়ির সরকারি নিবন্ধন রয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে ২৫ লাখের মতো। অর্থাৎ বাকি যানবাহন তুলে দেওয়া হয়েছে লাইসেন্সবিহীন চালকদের হাতে। নিয়ম অনুযায়ী চালকদের প্রথমে হালকা গাড়ির লাইসেন্স নিতে হয়। এর তিন বছর পর মাঝারি গাড়ির লাইসেন্স পাওয়া যায়। ভারী গাড়ির লাইসেন্স নিতে আরো তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়। এরপর যে চালক বাস চালাতে চায় তাকে পিএসভি নামে ভিন্ন আরেকটি লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় চালকরা এত দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে চায় না। হালকা বা মাঝারি গাড়ি চালানোর লাইসেন্স নিয়েই অনেকে বাস চালাচ্ছে। এর বাইরে আছে স্বল্পগতির যানবাহন, তাও নিবন্ধনহীন।
আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাসহ সড়ক-মহাসড়কে চলছে তিন চাকার স্বল্পগতির যানবাহন। নসিমন, করিমন, আলম সাধু, ভটভটি ইত্যাদি নামের এসব যানবাহন সংযোগ সড়ক ছেড়ে উঠে যাচ্ছে মূল সড়কে। দুর্ঘটনা ঘটছে যত্রতত্র। গত শুক্রবারও রাজবাড়ীতে ট্রেনের ধাক্কায় তিন নসিমনযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তিন চাকার এসব যানবাহন বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীন। কোনো কোনো এলাকায় পৌর কর্তৃপক্ষ এসব তিন চাকার বাহনকে লাইসেন্স দিচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে হালকা তিন চাকার নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। কিন্তু আরো ৩৪ লাখ এজাতীয় যানবাহন চলছে নিবন্ধন ছাড়াই।
২২টি জাতীয় মহাসড়কে হালকা ও শ্লথগতির এসব যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ হলেও কার্যকর নজরদারি না থাকায় কেউই নিষেধ মানতে রাজি নয়। শ্লথগতির লেগুনা বা হিউম্যান হলারও মহাসড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মহাসড়কে দ্রুত ও শ্লথগতির যানবাহন একসঙ্গে চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়।
আমরা মনে করি, সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে এখনই ভাবতে হবে। অন্যথায় অব্যাহত থাকবে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটনা। আমরা হালকা যানবাহনের জন্য আলাদা লেন তৈরির কথা বলেছি বারবার। সড়ক-মহাসড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন তুলে দিতে হবে। সবার আগে চালকদের নিয়ে ভাবাটা বেশী জরুরি। লাইসেন্সবিহীন চালকদের হাতে কোনোভাবেই কোনো গাড়ি তুলে দেওয়া যাবে না। সড়কে সেটাই আত্মঘাতী হিসেবে কাজ করছে। আমরা মনে করি, যানবাহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব।


