অভিবাসী বাংলাদেশিরা ‘ঘুণপোকা’: অমিত শাহ

অভিবাসী বাংলাদেশিরা ‘ঘুণপোকা’: অমিত শাহ

পাথেয় রিপোার্ট : ভারতে অবস্থানরত কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের ‘ঘুণপোকা’ বলে সম্বোধন করে বির্তক উসকে দিয়েছেন দেশটির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহ। তাঁদের চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রাজস্থানের সাওয়াই মাধোপুর জেলার গঙ্গাপুরে ২২ সেপ্টেম্বর শনিবার এক জনসভায় একরকম হুমকির মতোই এ কথা বলেন অমিত শাহ।

কিছুদিন আগেও বিজেপির আর এক প্রভাবশালী নেতা রাম মাধব কথিত বাংলাদেশিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন। এখন রাজস্থানের একটি জনসভায় স্বয়ং বিজেপি সভাপতি বাংলাদেশীদের উইপোকা বলে আক্রমণ করলেন।

আসাম রাজ্যের জাতীয় নাগরিক তালিকার (এনআরসি) কথা উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, বিজেপি সরকার এনআরসি করেছে এবং এতে প্রায় ৪০ লাখ অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিত হয়েছে। এভাবেই সরকার ভারতে অবস্থানরত প্রত্যেক ‘অনুপ্রবেশকারীকে’ চিহ্নিত করবে। ওইদিকে আসামে গত জুলাই মাসে এনআরসি দ্বিতীয় খসড়া প্রকাশ করা হয়। রাজ্যের ৪০ লাখ বাসিন্দার নাম নেই ওই তালিকায়। তাঁদের অনেকেই কয়েক প্রজন্ম ধরে আসামে বসবাস করছেন। এ নিয়ে সেখানে অবস্থানরত বাসিন্দাদের মাঝে দেখা গেছে দুশ্চিন্তার কালো ছাপ। তাদের যদি সত্যিই জোর করে বের করে দিতে চায় ভারত সরকার। তাহলে কয়েক যুগ ধরে এক জায়গায় বসবাস করে আসা এসব মানুষেরা এখন কোথায় যাবে তা তারা নিজেরাই জানে না।

এরপর হরিয়ানা ও ওডিশাতেও এনআরসির দাবি উঠেছে। সর্বশেষ ঝাড়খন্ড রাজ্যে এনআরসির দাবি তুলেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস। গত সপ্তাহে নিজ বাড়িতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ইস্যুতে ক্ষমতাসীন বিজেপির মত পরিষ্কার। আমাদের প্রত্যেক অবৈধ বাংলাদেশিকে খুঁজে বের করে দেশ থেকে এক এক করে বের করে দিতে হবে।’

চলতি মাসের শুরুর দিকে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব এনআরসি নিয়ে দলের নীতি তুলে ধরেন পরিষ্কারভাবে। তিনি বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসীদের’ ভাগ্য নির্ধারিত হবে তিন ‘ডি’র ভিত্তিতে। প্রথম ডি ‘ডিটেক্ট’ অর্থাৎ শনাক্ত করা, দ্বিতীয় ডি ‘ডিলিট’ অর্থাৎ বাদ দেওয়া এবং শেষ ডি ‘ডিপোর্টেশন’ অর্থাৎ বিতাড়ন করা। তাঁর কথার অর্থ, অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত করে ভোটার তালিকাসহ অন্যান্য সেবা তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে। এরপর তাঁদের ভারত থেকে বিতাড়ন করা হবে।

কিন্তু ভারতের আরেক কংগ্রেস নেতা অবশ্য এর বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তিনি এমপি মৌসম বেনজির নূর। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মালদা জেলা থেকে গত প্রায় দশ বছর ধরে নির্বাচিত কংগ্রেসের এমপি মৌসম বেনজির নূর – তিনি কিন্তু মনে করেন ‘দেশের স্বার্থ-ফার্থ’- এসব একদম বাজে কথা!

তার কথায়, “সামনে ভোট আসছে – তাই এটা আসলে ধর্মের নামে মেরুকরণ করে গোটা বিষয়টার মাধ্যমে রাজনৈতিক ভোট-ব্যাঙ্ক তৈরির চেষ্টা। তা যদি না-হত, তাহলে এখন নয় – অনেক আগেই তারা ইস্যুটা তুলতেন।”

মিস নূর আরও বলছেন, মালদা থেকেও বহু বাংলাভাষী মুসলিম কাজের খোঁজে ভারতের নানা প্রান্তে যান, এখন অবৈধ বাংলাদেশী খোঁজার হিড়িকে আক্রমণের নিশানা করা হচ্ছে তাদেরও।

“আমাদের জেলারই লোক আফরাজুলকে গত ডিসেম্বরে রাজস্থানে পিটিয়ে, পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। মালদা থেকে যে অভিবাসী শ্রমিকরা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছেন, তাদের অনেককেই আসলে বাংলাদেশী বলে হেনস্থা করা হচ্ছে।”

“তারা যে মালদারই বাসিন্দা ও ভারতের নাগরিক, সেটা প্রমাণ করতে আমরা রেসিডেন্ট সার্টিফিকেটও দিয়ে থাকি। কিন্তু তারপরও এই ধরনের হামলা চলছেই। আসলে এভাবেই বিজেপি বিভাজনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশটা ভাগ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে,” বলছিলেন মৌসম নূর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *