পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম (দেওবন্দ) : ভারতের অযোধ্যায় বাবরী মসজিদ স্থলে রাম মূর্তি নির্মাণকল্পে কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী দলগুলোর একাট্টা সমাবেশে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে মুসলিমরা। ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকায় ইতোমধ্যেই সেখানকার প্রশাসন পুরো এলাকায় নিরাপত্তা প্রদান করেছেন এবং উগ্রপন্থী, লোকদের একটি লিস্টও তৈরি করছে কর্তৃপক্ষ।
অযোধ্যা বিষয়ে দারুল উলূম দেওবন্দের প্রিন্সিপাল মুফতি আবুল কাসেম নোমানী নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৫ নভেম্বর রোববার অযোধ্যায় হিন্দুত্ববাদী দলগুলোর একাট্টা সমাবেশে অনেক দাঙ্গা হাঙ্গামার খবর আসছে চারদিক থেকে। বিশেষ করে সেখানকার মুসলমানরা একরকম ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে আছে৷ সেখানে দাঙ্গা বাধাতে লুকিয়ে আছে এমন কিছু লোকের খবর ও পাওয়া গেছে।
মুফতি আবুল কাসেম বলেন, এমন সঙ্কটাবস্থায় জেলা এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসনের দায়িত্ব হলো সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেখানে অবস্থানরত প্রতিটা এলাকার বাসিন্দাদের জান-মালের নিরাপত্তা প্রদানে শতভাগ সততার মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব পালন। অন্যদিকে এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত এলাকাগুলোয় ব্যাপক নজরদারি চালু রাখা হয়েছে আগ থেকেই। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের উপর রয়েছে গোয়েন্দাদের সতর্ক দৃষ্টি।
এদিকে এক ঘোষণা মতে, রোববার ২৫ নভেম্বর অযোধ্যায় জড়ো হয়েছে শিবসেনা গোষ্ঠী। ওখানে কাল থেকে শুরু হবে তাদের ’ধর্ম সনসদ’। এদিকে সমাবেশস্থল ও তার আশপাশের এলাকাগুলোয় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ তাদের সমাবেশ শেষ করার কথা বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেখান শান্তিপূর্ণ অবস্থাই বিরাজ করছে। কিন্তু সোমবার ঘোষিত তাদের ধর্ম সনসদের দিকেই সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ এখন।
সূত্র বলছে, সোমবার সেখানে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কয়েক প্লাটুন পুলিশ রাখা হয়েছে। কোনপ্রকার দাঙ্গা-হাঙ্গামা যেন না বাধে তার দিকে প্রশাসনের সতর্ক দৃষ্টি আছে বলেও জানা গেছে।
সূত্র আরো জানিয়েছে, এই সমাবেশ কেন্দ্র করে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ও বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে বলে সংবাদ আগে থেকেই পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। তার উপর ভিত্তি করেই সর্বাচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছেন প্রশাসন। সমাবেশস্থল এবং তার আশপাশের এলাকাগুলোয় গোয়েন্দা দল তাদের নজরদারি জারি রেখেছে এবং সন্দেহভাজন লোকদের একটি লিস্ট ও রেখেছে তাদের কাছে।
এদিকে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের স্থানে বিশ্বের সব থেকে উঁচু ২২১ মিটারের বিশাল রাম মন্দির নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কট্টর হিন্দু ধর্মালম্বী আদিত্যনাথের এমন বক্তব্য আগুনে ঘি ঢালার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে ভারতে। অযোধ্যায় অপর দুই কট্টরপন্থি হিন্দু সংগঠন আরএসএস ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সমাবেশ ডাকের সময় আদিত্যনাথের এমন বক্তব্য তাদেরকে আরো উসকে দিল। এতদিন দেশটির কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল আরএসএস ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ অতিদ্রুত রাম মন্দির নির্মাণের দাবি করেছেন। আর মূলত এই দাবির পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করছেন যোগী আদিত্যনাথ।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
তথ্যসূত্র : ডেইলি হামারা সামজ, দিল্লী


