অর্থ পাচারের তথ্য তদন্ত করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক : অর্থ প্রতিমন্ত্রী

অর্থ পাচারের তথ্য তদন্ত করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক : অর্থ প্রতিমন্ত্রী

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ● ওয়াশিংটনভিত্তিক গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের যে তথ্য দিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা তদন্ত করবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের অনুপস্থিতিতে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাকা পাচারে যে পরিমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তা বিশাল অংকের। বর্তমানে উন্মুক্ত তথ্যপ্রবাহের যুগে আমরা অনেক তথ্য পেয়ে থাকি। সেখানে অনেক ভালো তথ্যের পাশাপাশি অনেক প্রশ্নবিদ্ধ তথ্যও থাকে। তবে আমরা জিএফআইয়ের প্রকাশিত তথ্যকে উড়িয়ে দিচ্ছি না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএআইইউ) রয়েছে। তাদের কাজই হচ্ছে এসব বিষয় নিয়ে গবেষণা, তদন্ত ও খোঁজখবর নেয়া। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে এম এ মান্নান বলেন, সরকার তাতে সার্বিক সহায়তা ও নির্দেশনা দেবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের চুরি না হয়।

তবে একটি কথা বলব- চুরি অহরহ হবেই, তবে আমাদের সাবধান হতে হবে। আইন প্রয়োগে আমরা পিছপা হব না। এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থ পাচার রোধে বর্তমানে বাংলাদেশে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১৩ বলবৎ রয়েছে, যা সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর সংশোধন হয়। এ আইনের বিধান অনুসারে বৈধ বা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বা সম্পত্তি নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিদেশে পাচার মানি লন্ডারিং অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ আইনে অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন চার বছর এবং সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দ্বিগুণ মূল্যের সমপরিমাণ বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বর্তমানে প্রচলিত আইনের প্রয়োগে কোনো সমস্যা/প্রতিবন্ধকতা পরিলক্ষিত হলে তা ভবিষ্যতে সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এদিকে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের যে তথ্য জিএফআই প্রকাশ করেছে, তার সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দেশে অর্থ পাচার প্রতিরোধে আইন আছে। এ প্রতিবেদনের সত্যতা পাওয়ার পর তার মধ্যে যদি এ আইনে কোনো অপরাধ পাওয়া যায়, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *